বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রাজপথে রক্তারক্তি! নিজের দলের লোকজনের হামলায় মাথা ফাটল বিধায়কের

পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় প্রকাশ্যে এল ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব ও গোষ্ঠীকোন্দল। সোমবার সন্ধ্যায় দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হলেন ডেবরার বিজেপি বিধায়ক শুভাশিস ওম। সংঘর্ষের ঘটনায় বিধায়ক ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বিধায়ক শুভাশিস ওমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সেখানেই তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার আসল নেপথ্য কারণ ও তোলাবাজির অভিযোগ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেবরা এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরেই একশ্রেণির বিজেপি কর্মী ও সমর্থক নানা ধরনের তোলাবাজি চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ। এই বেআইনি কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিধায়ক শুভাশিস ওমের অনুগামীরা ওই তোলাবাজদের বাধা দেন। এই নিয়েই সোমবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বচসা চলাকালীন পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা শেষ পর্যন্ত মারপিট ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ বিধায়ক শিবিরের:
এই হামলার ঘটনার পর বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বের ভয়াবহ চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিধায়ক শিবিরের তরফ থেকে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ডেবরা এলাকায় চলা ওই বেআইনি তোলাবাজির নেপথ্যে মদত রয়েছে বিজেপির জেলা সভাপতি তন্ময় দাসের।
উল্লেখ্য, জেলা সভাপতি তন্ময় দাস এবং বিধায়ক শুভাশিস ওমের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার লড়াই দীর্ঘদিনের। সোমবার সন্ধ্যার এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা সেই পুরনো অন্তর্দ্বন্দ্বে ঘি ঢেলে আরও একবার প্রকাশ্যে নিয়ে এল। ঘটনার পর থেকেই গোটা ডেবরা জুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে স্থানীয় পুলিশ।