২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা কি পিছিয়ে যাচ্ছে? জল্পনার মাঝেই সামনে এল বিরাট বড় আপডেট!

দেশজুড়ে জনগণনার ব্যাপক কর্মযজ্ঞের জেরে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। ২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী বছরের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হতে চলা জনগণনার কাজের কথা মাথায় রেখে পরীক্ষার প্রচলিত সময়সূচিতে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হতে পারে।
জনগণনা এবং শিক্ষক সংকট:
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে জনগণনার প্রথম পর্যায়ের বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের কাজ, যা একটানা চলবে ১ মার্চ পর্যন্ত। এই বৃহৎ এবং সংবেদনশীল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক স্কুলশিক্ষককে যুক্ত করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, চিরাচরিত নিয়মে ফেব্রুয়ারি মাসে বোর্ড পরীক্ষাগুলি আয়োজন করা হলে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক, পরিদর্শক ও পরীক্ষক পাওয়ার ক্ষেত্রে তীব্র সংকট বা প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারত। এই সম্ভাব্য সমস্যা এড়াতেই পর্ষদ সভাপতি ড. রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় গত ২ নভেম্বর রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরের কমিশনারকে একটি চিঠি পাঠিয়ে নতুন ও পরিবর্তিত সূচির অনুমোদনের আবেদন জানিয়েছেন।
২০২৭ সালের মাধ্যমিকের প্রস্তাবিত সময়সূচি:
প্রশাসনিক জটিলতা ও শিক্ষক সংকটের কথা মাথায় রেখে পর্ষদের তরফে একটি সম্ভাব্য বা প্রস্তাবিত রুটিন তৈরি করা হয়েছে:
২ মার্চ, ২০২৭: প্রথম ভাষা
৩ মার্চ, ২০২৭: দ্বিতীয় ভাষা
৫ মার্চ, ২০২৭: ইতিহাস
৮ মার্চ, ২০২৭: ভূগোল
১২ মার্চ, ২০২৭: গণিত (অঙ্ক)
১৩ মার্চ, ২০২৭: ভৌতবিজ্ঞান
১৫ মার্চ, ২০২৭: জীবনবিজ্ঞান
১৬ মার্চ, ২০২৭: ঐচ্ছিক বিষয়
সার্বিক সমন্বয় ও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা:
নতুন এই সূচি তৈরির সময় সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা, অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং উচ্চমাধ্যমিকের সেমিস্টার পরীক্ষার দিনক্ষণের সঙ্গে যাতে কোনও ধরনের সংঘাত বা ডেট ওভারল্যাপ (Date Overlap) না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। তবে পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে যে এটি আপাতত একটি প্রস্তাবিত সূচি মাত্র। রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন ও সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই এই নতুন সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।