এক রাতের ঝড়ে ৮.৫ বিলিয়ন ডলার আয়! আদানিকে পেছনে ফেলে ফের এশিয়ার সেরার সিংহাসনে মুকেশ অম্বানী

শেয়ার বাজারের রেকর্ড উর্ধমুখী গতিতে এক রাতেই বদলে গেল ছবিটা। গৌতম আদানি এবং চিনের ঝাং ইনমিনকে পেছনে ফেলে ফের এশিয়ার শীর্ষ ধনকুবেরের খেতাব ছিনিয়ে নিলেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ অম্বানী (Mukesh Ambani)। ‘ফোর্বস রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ার্স’ সূচক অনুযায়ী, মাত্র একদিনের শেয়ার বাজার ট্রেডিংয়েই অম্বানীর সম্পত্তি এক ধাক্কায় বেড়ে গেছে প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার। এই মুহূর্তে তাঁর মোট নেট ওয়ার্থ গিয়ে পৌঁছেছে ৮৮.৮ বিলিয়ন ডলারে, যা তাঁকে বিশ্বের ধনীদের তালিকায় ২৩ নম্বর স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

এক লাফেই বিপুল লক্ষ্মীলাভ:
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে গত ছয় বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবথেকে বড় একদিনের বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। সোমবার রিলায়েন্সের শেয়ার দর ১১.৬ শতাংশ লাফিয়ে প্রায় ১,৩০০ টাকায় গিয়ে বন্ধ হয়। এই উত্থানের ফলে রিলায়েন্সের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বা বাজার মূল্য এক দিনে প্রায় ১.৮৪ লক্ষ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭.৬ লক্ষ কোটি টাকায়। অম্বানীর ব্যক্তিগত সম্পদের সিংহভাগই যেহেতু রিলায়েন্সের শেয়ারের সাথে যুক্ত, তাই শেয়ারের দাম বাড়তেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর সম্পদ আকাশ ছুঁয়েছে।

রাতারাতি ৮.৫ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধির মূল কারণগুলি কী?
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের অভূতপূর্ব আর্থিক ফলাফল প্রকাশিত হতেই শেয়ার বাজারে এই বিপুল ঢেউ ওঠে। সংস্থাসূত্রে জানানো হয়েছে, এই ত্রৈমাসিকে তাদের কনসোলিডেটেড নিট প্রফিট ৪০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৫,৫৪৮ কোটি টাকায়, যা বাজার বিশেষজ্ঞদের সমস্ত অনুমানকে ছাপিয়ে গেছে।

এই শেয়ার দৌড়ের পেছনে মূলত ৩টি মূল বিষয় কাজ করেছে:

তেল ব্যবসা: উন্নত রিফাইনিং ও পেট্রোকেমিক্যাল মার্জিন রাজস্ব বাড়াতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।

জিও প্ল্যাটফর্ম (Jio Platforms): গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মুনাফার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় টেলিকম ব্যবসা ভিত আরও মজবুত করেছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা: রিলায়েন্স রিটেইল ব্যবসায় সামান্য চাপের মুখ দেখলেও প্রত্যাশার চেয়েও ভালো আর্থিক ফলাফলের কারণে শেয়ার কেনাকাটায় বড় ঢল নামে।

এশিয়া ও ভারতের ধনীদের দৌড়ে কে কোথায় দাঁড়ালেন?
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী গৌতম আদানির (৭৯.২ বিলিয়ন ডলার) থেকে বর্তমানে প্রায় ৯.৬ বিলিয়ন ডলারে এগিয়ে গেছেন মুকেশ অম্বানী। ভারতের ধনকুবেরদের শীর্ষ তালিকায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সাবিত্রী জিন্দাল ও তাঁর পরিবার, ৩১.৪ বিলিয়ন ডলার নিয়ে চতুর্থ শিব নাডার এবং ৩০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন লক্ষ্মী মিত্তাল।

অন্যদিকে এশিয়ার নিরিখে, চিনের বাইটড্যান্সের (ByteDance) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইনমিনকে (৮৪ বিলিয়ন ডলার) পেছনে ফেলে এশিয়ার ১ নম্বর স্থান দখল করেছেন অম্বানী। ঝাং বর্তমানে বিশ্বমঞ্চে ২৫ নম্বর স্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন জাপানের মাসায়োশি সন, ফাস্ট রিটেইলিংয়ের তাদাশি ইয়ানাই এবং চিনের ঝোং শানশান (৬২.৯ বিলিয়ন ডলার)।

ভবিষ্যৎ পথচলা ও রিলায়েন্সের রূপরেখা:
জিও প্ল্যাটফর্মসের সাম্প্রতিক বাজার সূচনার পর নজর এবার রিলায়েন্সের আগামী পদক্ষেপের দিকে। যদিও রিটেইল ব্যবসা কিছুটা চাপে রয়েছে এবং শেয়ারের দাম পূর্বের সর্বোচ্চ শিখরের নিচে রয়েছে, তাও এই ত্রৈমাসিকের রেকর্ড রিটার্ন বিনিয়োগকারীদের মনোবল এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামীতে রিলায়েন্স এই আয়ের গতি ধরে রাখতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের আর্থিক বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারী মহল।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *