‘টাকা চাই না, চাই আন্তর্জাতিক মানের স্কুল!’-বিচার চেয়ে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ CJP নেতা

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) সমাবেশে যোগ দেওয়ার অপরাধে বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাবাকে পিটিয়ে মারার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও চার্জশিট জমা পড়েনি—এই অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারের দপ্তরে হাজির হলেন আব্দুল হাফিজ। বাবার খুনের ঘটনায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ চার্জশিট পেশ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সোমবার জেলা পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের হাতে লিখিত স্মারকলিপি তুলে দেন তিনি।

এদিন ককরোচ জনতা পার্টির বেশ কিছু কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়া পুলিশ সুপার দপ্তরে যান আব্দুল। জেলা পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি যেমন দ্রুত সুবিচারের দাবি জানান, ঠিক তেমনই তাঁর প্রয়াত বাবা শেখ মাফিকের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল তৈরির দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

কী ঘটেছিল সেই দিন?

উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার অন্তর্গত করিশুণ্ডা গ্রামে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা আব্দুল হাফিজের বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী তাণ্ডব চালায় ও হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সেই সময় আব্দুল হাফিজের পাশাপাশি তাঁর বাবা শেখ মাফিককে চরম মারধর করা হয়। হামলায় মারাত্মকভাবে জখম হন শেখ মাফিক। এর পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, ১৫ আগস্ট রাতে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর থেকেই আন্দোলনে নামে ককরোচ জনতা পার্টি। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত শেখ মাফিকের নামে এলাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল গড়ে তোলার দাবি তোলে দলটি।

৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিটের কড়া দাবি

ঘটনার পর তদন্তে নেমে ইন্দাস থানার পুলিশ মূল অভিযুক্তদের প্রায় সকলকেই গ্রেফতার করেছে। তবে আইনানুযায়ী ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যে যাতে পুলিশ আদালতে পুঙ্খানুপুঙ্খ চার্জশিট পেশ করে এবং সুবিচার নিশ্চিত করে, মূলত সেই কারণেই এদিন সিজেপি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারের দপ্তরে ডেপুটেশন জমা দিতে আসেন আব্দুল। এদিনের এই হাই-প্রোফাইল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বাঁকুড়া পুলিশ সুপার দপ্তর প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়েছিল আঁটসাঁট নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ক্ষতিপূরণ নয়, চাই স্কুল

দপ্তর থেকে বেরিয়ে আব্দুল হাফিজ জানান, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের জন্য সরকার বা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও আর্থিক ক্ষতিপূরণ নেওয়ার বদলে তাঁরা একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল তৈরির আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করেনি।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আব্দুল বলেন, “এই ঘটনায় কোনও আর্থিক ক্ষতিপূরণ না নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল তৈরি করার আবেদন জানিয়েছিলাম। সরকার যদি তা না করে তবে সেটা তাদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা। তবে সরকার পাশে না দাঁড়ালেও আজ থেকে ৫ বা ১০ বছর পরে হলেও জনসাধারণের সাহায্য নিয়ে আমি এই এলাকায় একটি বিশ্বমানের স্কুল তৈরি করবই।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *