“আমেরিকায় গিয়ে প্রতিবাদ করুন, ভারতে সহ্য করা হবে না!” ইমরান খানের মামলায় ওসিআই কার্ডধারীদের কড়া বার্তা বম্বে হাইকোর্টের

ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া বা ওসিআই (OCI) কার্ডধারীদের অধিকার ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠোর মন্তব্য করল বম্বে হাইকোর্ট। সোমবার এক হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ওসিআই কার্ডধারীরা ভারতে বসবাসকালে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ, বিক্ষোভ বা সমালোচনা মূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। বেঞ্চের সোজাসুজি পর্যবেক্ষণ, “আমেরিকায় গিয়ে যা খুশি প্রতিবাদ করুন… কিন্তু ভারতের মাটিতে থেকে কোনো বিষয়েই রাজনৈতিক আন্দোলন বা সরকারের বিরোধিতা সহ্য করা হবে না।”
অভিনেতা ইমরান খানের মামলার জল কতদূর? বিখ্যাত অভিনেতা ইমরান খানের দায়ের করা এক মামলার শুনানিতেই শীর্ষ আদালতের এই নজিরবিহীন কড়া অবস্থান সামনে আসে। উল্লেখ্য, ইমরান খান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের (USA) নাগরিক এবং ভারতে ওসিআই (OCI) কার্ড নিয়ে বসবাস করেন। সম্প্রতি মুম্বইয়ে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিলে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এর পরপরই ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO) থেকে তাঁকে ভারত ছাড়ার (Leave India Notice) কড়া নোটিশ পাঠানো হয়। ওই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এই অভিনেতা।
“সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদ কেবল ভারতীয়দের জন্য” — হাইকোর্ট: সোমবার মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অদ্বৈত সেথনার ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত কড়া মনোভাব ব্যক্ত করে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওসিআই কার্ডধারী হওয়া মানেই কেউ ভারতীয় নাগরিক হয়ে যান না।
ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ হিসেবে জানায়—
-
সংবিধানের সীমাবদ্ধতা: ভারতীয় সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদের অধীনে থাকা অবাধ বাক্স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক অধিকার কেবল ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত, কোনো বিদেশি বা ওসিআই কার্ডধারীর জন্য নয়।
-
স্বার্থের প্রশ্ন: দেশের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার দ্বারা ইমরান খান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রভাবিত নন। ফলে এ ধরনের রাজনৈতিক আন্দোলনে তাঁর নামার কোনো আইনি ভিত্তিই নেই।
-
বিদেশের উদাহরণ: প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কটাক্ষ করে বলে, “যদি কোনো ভারতীয় নাগরিক বিদেশে গিয়ে সেখানকার সরকারের বিরুদ্ধে একই কাজ করতেন, তবে ওই দেশ তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে বহিস্কার করে নিজের দেশে ফেরত পাঠাত।”
নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ইমরান খান: বম্বে হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ওসিআই কার্ডধারী হিসেবে ভারতে থেকে রাজনৈতিক আলোচনা বা প্রতিবাদ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এই ঘটনার জন্য আদালত ইমরান খানকে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে এবং ভবিষ্যতে কোনো দিন এই ধরনের কোনো প্রতিবাদ-মিছিলে অংশ না নেওয়ার হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের পর ইমরান খান ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ওসিআই (OCI) কার্ডধারীদের আসল অধিকার ও সীমা কোথায়? আইন অনুযায়ী, ওসিআই কার্ডধারীরা ভারতে আজীবন বসবাস, যাতায়াত, কাজ করা এবং একাধিক আর্থ-সামাজিক সুবিধা পেলেও তাঁদের কিছু নির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে:
-
তাঁরা ভারতের সাধারণ নির্বাচনের ভোটার নন এবং ভোট দিতে পারেন না।
-
কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ভারতীয় রাজনৈতিক পদ অলঙ্কৃত করতে পারেন না।
-
কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া বা নাগরিকসুলভ রাজনৈতিক অধিকার দাবি করা তাঁদের জন্য নিষিদ্ধ।
বম্বে হাইকোর্টের এই মন্তব্যের পর আপাতত ইমরান খানের ওপর জারি হওয়া ‘ভারত ছাড়ার নোটিশ’-এর ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ডিসেম্বর মাসে। আদালতের এই কঠোর পর্যবেক্ষণ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ওসিআই কার্ডধারীদের মধ্যে এক বিরাট বার্তা পৌঁছে দিল।
আপনি কি এই খবরের বিষয়ে আরও কোনো নির্দিষ্ট বিশ্লেষণ বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার অংশ যুক্ত করতে চান?