এক বাড়িতেই ৪ জনের রক্তাক্ত দেহ, ৫০০ মিটার দূরে ট্র্যাকে কর্তা! নেপথ্যে কি ভয়ংকর রহস্য?

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা মর্মান্তিক ঘটনা। একই পরিবারের চার সদস্যের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হলো নিজ বাসা থেকে। প্রত্যেকের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পরেই বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে রেললাইনের ওপর উদ্ধার হয় পরিবারের কর্তা নরেন্দ্র সাহুর ছিন্নভিন্ন দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে খুন করার পর নিজে রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন নরেন্দ্র। তবে এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কীভাবে সামনে এলো ঘটনা?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে মালিখেড়ি এলাকার কাছে রেললাইনের ওপর এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মৃতদেহের পকেট ও অন্যান্য নথি দেখে পরিচয় শনাক্ত করে। জানা যায়, ওই ব্যক্তি মালিখেড়ির বাসিন্দা নরেন্দ্র সাহু। এর পরেই পুলিশ তাঁর ভাড়া বাড়িতে পৌঁছায়।

বাড়ির দরজা খুলে ঘরের ভেতরে ঢুকে স্তম্ভিত হয়ে যান তদন্তকারীরা। দেখা যায়, পরিবারের বাকি চার সদস্য রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের প্রত্যেকের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

ঋণের চাপ নাকি অন্য কোনো হুমকি?

ঘটনার বিষয়ে নিশাতপুরার এসিপি শশাঙ্ক জৈন জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে পরিবারটি মারাত্মক আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিল। সূত্রের দাবি, নরেন্দ্র সাহুর ওপর আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার ঋণ ছিল। প্রতিবেশীদের বক্তব্য, ব্যবসার প্রয়োজনে নরেন্দ্র বিভিন্ন জায়গা থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ধার করেছিলেন। তবে কোনো মহাজন বা ঋণদাতার পক্ষ থেকে পরিবারটি কোনো মানসিক চাপ বা হুমকি পাচ্ছিল কি না, সেই দিকটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

১৫ দিন আগেই বন্ধ হয়ে যায় ব্যবসা

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, নরেন্দ্র সাহুর একটি নিজস্ব রেস্তরাঁ ছিল। কিন্তু চরম লোকসানের মুখে পড়ে প্রায় ১৫ দিন আগে সেটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়। তার পর থেকেই মারাত্মক আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছিল পুরো পরিবার। জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মালিখেড়ি এলাকায় এসে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন তাঁরা।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চরম মানসিক অবসাদ ও দেনার দায় থেকে মুক্তি পেতে নরেন্দ্র সাহু পরিবারের সবাইকে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করেন। তার পর নিজে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে গিয়ে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন।

তবে এটি শুধুই ঋণের চাপে আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা নিশ্চিত করতে সব দিক খতিয়ে দেখছে ভোপাল পুলিশ। পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলা এবং নরেন্দ্রর সাম্প্রতিক আর্থিক লেনদেনের হিসেব খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *