স্বরূপ জমানার ছায়া নাকি নতুন নিয়ম? টালিগঞ্জের ভোট নিয়ে ক্ষুব্ধ পাপিয়া অধিকারী, তোপ দাগলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গে সরকার ও রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের পর টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় বইছে নতুন ভোটের হাওয়া। দীর্ঘ দিন পর শুরু হয়েছে ২৩টি গিল্ডের সভাপতি ও পদাধিকারী নির্বাচনের প্রক্রিয়া। শনিবারের পর রবিবার মাসপয়লায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে চলছে বিভিন্ন গিল্ডের দু’দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও অবাধ হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রবিবার উপস্থিত হন মিঠুন চক্রবর্তী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। তবে ভোট চলাকালীনই স্টুডিওপাড়ার নির্বাচনী পরিচালনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন পাপিয়া অধিকারী, যার পাল্টা স্পষ্ট ও কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।
কী নিয়ে ক্ষুব্ধ পাপিয়া অধিকারী?
সাবেক তৃণমূল জমানায় তৎকালীন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেকেই এবার বিভিন্ন গিল্ডের প্রার্থী হয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে শনিবারের পর রবিবারেও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন, “মিঠুনদা হয়তো সব মানুষকে চেনেন না, তাঁরা আবার সেই পুরোনো অত্যাচার শুরু করতে পারেন। অত্যাচার শুরু হলে টালিগঞ্জের বিধায়ক হিসেবে আমাকেই উত্তর দিতে হবে। বহু টেকনিশিয়ান ও শিল্পী এখনও বাইরে রয়ে গিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।”
পাপিয়াকে কড়া জবাব রূপার: ‘দাদা-দিদি ধরে কাজ হবে না’
পাপিয়া অধিকারীর এই অভিযোগ ও অসন্তোষের জবাবে সুর চড়িয়েছেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ভোটাধিকার এবং প্রার্থীর যোগ্যতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রূপা বলেন, “ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার সকলেরই রয়েছে। আপনি কি কাউকে দেখে বলতে পারেন যে ও অমুক নেতার সঙ্গে ঘুরত, তাই ওকে ভোটে দাঁড়াতে দেব না? তা হলে তো অন্য দলও বলবে যে অমুক লোকটা সিপিএম বা বিজেপির সঙ্গে ঘুরত, ওকে দাঁড়িয়ে দেওয়া যাবে না। গণতন্ত্রে এটা হতে পারে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কে কার সঙ্গে ঘুরত না ঘুরত, কে অতীতে অন্যায় করেছিল—তা সংশ্লিষ্ট প্রতিটি গিল্ডই ঠিক করবে। তবে একটা কথা পরিষ্কার, গিল্ড তৈরি হয়ে যাওয়ার মানেই যে যার যা খুশি তা করতে পারবে না। কারণ পুরো ইন্ডাস্ট্রি পরিচালনা করার জন্য ইতিমধ্যেই একটি সুনির্দিষ্ট এসওপি (SOP) বা নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। সকলকে সেই নিয়ম মেনে চলতে হবে। কোনও দাদা-দিদিকে ধরে এখানে কিছু হবে না।”
কড়া পুলিশি পাহারা ও নিরাপত্তার ঘেরাটোপে টালিগঞ্জের সাউন্ড, হেয়ার ড্রেসার, আর্ট ডিরেক্টর, সিনেমাটোগ্রাফারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গিল্ডের ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। তবে ভোটের রেজাল্টের আগেই তারকা-নেত্রীদের এই বাকযুদ্ধে গরম হয়ে উঠেছে টলিপাড়ার পরিবেশ।