‘ভ্যানিশ কুমারজি, কবে ভ্যানিশ হবেন?’ রামলীলা ময়দানে মমতার ভাঙা হিন্দিতে বিস্ফোরক হুঙ্কার, তোলপাড় রাজনীতি!

দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের মহাসমাবেশ থেকে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে আক্ষরিক অর্থেই ধুয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তব্যের শুরুতেই নিজের হিন্দি ভাষার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অখিলেশ বা তেজস্বীর মতো ভালো হিন্দি আমি বলতে পারি না, ভাঙাচোরা হিন্দিতেই কয়েকটি কথা বলব।” তবে ভাঙা হিন্দিতে করা তাঁর প্রতিটি বাক্যেই চড়েছিল প্রতিবাদের চড়া সুর।

‘SIR মানে বিজেপির জন্য স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিলিফ!’

ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়াকে তীব্র কটাক্ষ করে মমতা বলেন, এই শব্দটির আসল অর্থ হলো “স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিলিফ, বিজেপির মতো একটা রাজনৈতিক দলের জন্য।”

তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন:

  • কেন্দ্রীয়ভাবে হাইজ্যাক করে বাংলার ১ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

  • “আমরা ভোটে হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে। এর জবাব আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাজনীতির ময়দানে দেব।”

  • ইভিএম, ভোট গণনা, গণতন্ত্র, সংবিধান থেকে মানুষের অধিকার—সবকিছুই লুঠ করা হচ্ছে বলে তোপ দাগেন তিনি।

‘ভ্যানিশ কুমারজি, কবে ভ্যানিশ হবেন?’

মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দিকে আঙুল তুলে কটাক্ষ করে বলেন, “ভ্যানিশ কুমারজি, আপনি শুধু ভোট ভ্যানিশ করেননি, গোটা ভোট গণনাকেই উধাও করে দিয়েছেন। আপনি কবে ভ্যানিশ হবেন?”

একই সঙ্গে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থোগুলিও আজ বিজেপির সহযোগী হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

‘মন্দির থেকে রাম জন্মভূমি, কিছুই বাদ দেননি!’

বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, মানুষের চাকরি, জীবন ও মা-বোনেদের সম্মান লুঠ করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্থানেও হাত পড়েছে।

“মন্দিরের টাকা পর্যন্ত লুঠ করেছেন! রাম জন্মভূমির টাকা লুঠ করেছেন। বাংলার মন্দিরের টাকা, গুরুদ্বার, মসজিদ, ওয়াকফ সম্পত্তি—কিছুই বাদ রাখেননি। সবকিছুর উপর আঘাত হেনেছেন।”

‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর স্লোগানকে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, এখন দেশের মানুষ বলছেন—‘বিজেপির সাথ, সবকা সর্বনাশ!’

‘জেন-জেড ও তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার ডাক’

গৃহবন্দি করে বা দমন-পীড়ন চালিয়ে গণতন্ত্রকে রোখা যায় না মন্তব্য করে মমতা দেশের তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রছাত্রী এবং ‘জেন-জেড’ (Gen Z)-দের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, এই লড়াইয়ে কোনো জাত, ধর্ম বা মতাদর্শের ভেদাভেদ রাখা যাবে না। সকলকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্লোগান তুলতে হবে—‘বিজেপি হটুয়াও, দেশ বাঁচাও!’

পাশাপাশি বিচারব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যম এবং তদন্তকারী সংস্থাকেও বিজেপির হাতের পুতুল না হয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।

পাল্টা জবাব বিজেপির

মমতার এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পত্র। তিনি পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের কাফের বলুন বা ভীতু বলুন, তাতেচ্ছু আসে যায় না। আমরা দেশের জন্য সব করতে পারি, এই আওয়াজে আমরা একটুও ভয় পাই না।”

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *