“মোদী-শাহের ইশারায় চলছে কমিশন, ভোট চুরি হচ্ছে!”-বিস্ফোরক খাড়গে, দিল্লির মসনদে চরম উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে!

ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবার আরও চড়ল বিরোধীদের আন্দোলনের ঝাঁঝ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শুক্রবার এই কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও, দিল্লির প্রবল বৃষ্টির কারণে তা পিছিয়ে শনিবার ধার্য করা হয়। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে জোটের মেগা সমাবেশের ঠিক আগে, খাড়গের বাসভবনে আয়োজিত এই প্রতীকী ‘ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচিকে তারই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রস্তুতি পর্ব বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এদিন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দিল্লির বাসভবনে এক অভূতপূর্ব ‘মক পার্লামেন্ট’ বা অনুকরণীয় সংসদের আয়োজন করা হয়। সংসদের আদলে চলা এই প্রক্রিয়ায় সভাপতিত্ব করছেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার।

এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই খাড়গের বাসভবনে এসে পৌঁছেছেন লোকসভা্র বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ইন্ডিয়া জোটের প্রথম সারির নেতারা দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিরোধী দল থেকে প্রায় ৩০ জন বিশিষ্ট বক্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখবেন এবং সবশেষে সমাপ্তি ভাষণ দেবেন রাহুল গান্ধী।

ভোটার তালিকায় কারচুপির মারাত্মক অভিযোগ

এদিন খাড়গের বাসভবন থেকে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন কংগ্রেস সভাপতি। মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন, “সমাজের দুর্বল অংশের মানুষ, মহিলা এবং তরুণদের ভোটাধিকার যাতে কোনোভাবেই কেড়ে নেওয়া না হয়, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। দিল্লিতে বসে থাকা কোনো ব্যক্তি যেন কম্পিউটারের মাধ্যমে গোপনে সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দিতে না পারেন।”

তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান যে, এই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করা নয়, বরং দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা রক্ষা করা। কমিশন যাতে পুরোপুরি নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে, সেটাই বিরোধীদের প্রধান দাবি।

“মোদী-শাহের সরাসরি নির্দেশে চলছে কমিশন”

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলে খাড়গে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি নির্দেশেই এখন নির্বাচন কমিশন পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ৭ মাস আগে প্রায় ১৯৩ জন সংসদ সদস্য জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের নোটিস জমা দিলেও, তা কোনো রকম বিবেচনা না করেই খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

২০১৪ সাল থেকে ‘ভোট চুরি’ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে খাড়গে আরও বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। কখনো সাংসদ কেনা, কখনো রাজনৈতিক দল ভাঙানো বা নির্বাচিত সরকার ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছে। নির্বাচনী বন্ড থেকে শুরু করে ইডি ও সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আর এখন সরাসরি ‘ভোট চুরি’ করা হচ্ছে দাবি করে কংগ্রেস সভাপতির হুংকার, এই ভোট চুরির শত শত তথ্য ও প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে।

আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানের মহা-সমাবেশের আগে বিরোধীদের এই সম্মিলিত হুংকার জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় ঝড় তুলতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *