৮ বছরের বালকের নৃশংস কাণ্ড! কেজির ছাত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে পাথর ও টব দিয়ে পিটিয়ে হুলস্থুল পঞ্চকুলায়!

হরিয়ানার পঞ্চকুলার একটি নামী বেসরকারি স্কুলে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ও অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা। স্কুলের ভেতরেই তৃতীয় শ্রেণীতে পাঠরত এক ৮ বছরের ছাত্রের হাতে বেধড়ক ও নৃশংস মারধরের শিকার হলো কেজি (KG)-র এক নিষ্পাপ খুদে ছাত্রী। অভিযুক্ত ছাত্র ওই বালিকাকে ছলে-বলে স্কুলের প্রথম তলার এক নির্জন কোণে নিয়ে গিয়ে পাথর এবং ভারী মাটির টব দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।

হামলার তীব্রতায় ছোট্ট বালিকাটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও তার ওপর একের পর এক পাথর ছোঁড়া হয় এবং তাকে মেঝেতে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। মুমূর্ষু ও রক্তসংক্রান্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত সেক্টর-৬ নাগরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তবে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় তাকে চিকিৎসকদের পরামর্শে চণ্ডীগড়ের বিখ্যাত পিজিআই (PGI Chandigarh) হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুদে ছাত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

“বাবা ডাকছে” বলে নির্জনে নিয়ে গিয়ে তাণ্ডব
আহত ছাত্রীর কাকা ফজিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ৮ বছরের ছাত্রটি প্রথমে কেজির ওই ছাত্রীর কাছে গিয়ে মিথ্যে কথা বলে যে তার বাবা বাইরে দাঁড়িয়ে তাকে ডাকছেন। এই অজুহাতে বালিকাটিকে ফুসলিয়ে স্কুলের প্রথম তলার একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে পৌঁছানো মাত্রই অভিযুক্ত ছাত্রটি হুট করে খেপে উঠে প্রথমে লাথি মারে, তারপর সেখানে থাকা পাথর এবং ভারী টব তুলে নিয়ে বালিকার মাথা ও মুখে সজোরে আঘাত করতে শুরু করে। মারের চোটে বালিকাটি অচেতন হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ার পরও ক্ষান্ত হয়নি সে। অচৈতন্য শরীরটিকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ফের পাথর দিয়ে আঘাত করতে থাকে।

ঘটনার পর যখন পরিবারের লোকজন শিশুটিকে খুঁজতে স্কুলে পৌঁছান, তখন আরও এক তাজ্জব ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বালকটি নিজেই পরিবারের সদস্যদের সেই নির্জন স্থানে নিয়ে যায়, যেখানে রক্তে ভেসে যাওয়া অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে ছিল নিষ্পাপ শিশুটি।

পুলিশি তদন্ত ও কড়া জিজ্ঞাসাবাদ
খবর পাওয়া মাত্রই সেক্টর-২০ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক যশদীপ এবং তদন্তকারী অফিসার প্রদীপ কুমার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ওই বেসরকারি স্কুলে পৌঁছান। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।

এত কম বয়সের একটি বাচ্চার মধ্যে কীভাবে এমন হিংসে ও উগ্র মানসিকতা তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ কেবল স্কুল কর্তৃপক্ষকেই নয়, অভিযুক্ত ছাত্রের বাবা-মাকেও কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

সি সিসিটিভি ও নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের ৫টি তীক্ষ্ণ প্রশ্ন
এই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকেই খুদে ছাত্রীর পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার গাফিলতি নিয়ে তাঁরা ৫টি অত্যন্ত কড়া প্রশ্ন তুলেছেন:

১. সিসিটিভি ডিসপ্লে থাকা সত্ত্বেও নজরদারি কেন নয়? স্কুলের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ ফিড যদি প্রিন্সিপালের ঘরে সার্বক্ষণিক চলতে থাকে, তবে প্রথম তলায় ঘটা এই ভয়াবহ হিংসা কোনো গার্ড বা স্টাফের নজরে এল না কেন?
২. নিরাপত্তাকর্মী ও শিক্ষক কোথায় ছিলেন? কেজি ক্লাসের একটি ছোট মেয়েকে হেঁটে হেঁটে ওপরের তলার নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হলো, তখন করিডোরে ডিউটিতে থাকা শিক্ষক বা নিরাপত্তা কর্মীরা কোথায় ছিলেন?
৩. স্কুল স্টাফ আগে উদ্ধার করল না কেন? অভিযুক্ত ছাত্র নিজেই যদি পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত ছাত্রীর কাছে নিয়ে যায়, তবে তার আগে স্কুলের কর্মীরা নিখোঁজ ছাত্রীকে কেন খুঁজে বের করতে পারলেন না?
৪. মানসিক ও পারিবারিক পরিবেশ কেমন? এত ছোট একটি বাচ্চার মধ্যে এমন চরম হিংস্রতা ও পাথর-টব দিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর নেপথ্যে তার পারিবারিক বা মানসিক অবস্থা ঠিক কেমন?

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই গোটা দেশজুড়ে স্কুলের নিরাপত্তা এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *