প্যান্টের ভেতর স্যানিটারি প্যাডে ব্লুটুথ ডিভাইস! ইউপি-র পরীক্ষায় টুকলির এমন হাইটেক ফাঁদ দেখে মাথায় হাত পুলিশের!

উত্তর প্রদেশে অনুষ্ঠিত ‘প্রাথমিক যোগ্যতা পরীক্ষা’ (UPSSSC PET 2026)-কে কেন্দ্র করে সামনে এল মারাত্মক তাজ্জব এবং অভিনব জালিয়াতির ঘটনা। পরীক্ষায় নকল বা টুকলি করতে পরীক্ষার্থীরা কত দূর যেতে পারে, তা যেন ফের প্রমাণ হলো ঝাঁসির এক পরীক্ষা কেন্দ্রে। ধাতব সনাক্তকারী যন্ত্র ও পুলিশের নজরদারি এড়াতে এক পরীক্ষার্থী অন্তর্বাসের ভেতর স্যানিটারি প্যাডে ব্লুটুথ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস লুকিয়ে রেখেছিল!

তবে শেষ রক্ষা হয়নি, পরীক্ষা হলের ভেতর ডিভাইসের অদ্ভুত শব্দই ফাঁস করে দেয় তার সমস্ত কীর্তি।

স্যানিটারি প্যাডে আধুনিক প্রযুক্তি ও ‘সরসর’ শব্দ!
ঝাঁসির এসপি সিটি প্রীতি সিং জানিয়েছেন, ধৃত ওই পরীক্ষার্থীর নাম আকাশ প্যাটেল, যিনি প্রয়াগরাজের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক অত্যন্ত চতুরতার সাথে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ব্লুটুথ সেটআপটি একটি স্যানিটারি প্যাডের ভেতরে সেলাই বা সেট করে তা নিজের অন্তর্বাসে পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকে পড়েছিল।

পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর সে যখন ডিভাইসটির মাধ্যমে উত্তর জানার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই তার প্যান্টের ভেতর থেকে আচমকা হালকা ‘সরসর’ শব্দ বের হতে শুরু করে। দায়িত্বে থাকা রুম ইনভিজিলেটরের (कक्ष निरीक्षक) মনে সন্দেহ দানা বাঁধায় তিনি তড়িঘড়ি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের খবর দেন। এরপর নিরাপত্তা কর্মীদের কড়া তল্লাশিতে স্যানিটারি প্যাড থেকে উদ্ধার হয় সেই হাইটেক ব্লুটুথ যন্ত্র। অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে মামলা (FIR) রুজু করা হয়েছে।

১০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বর্জন
ঝাঁসি জেলায় PET পরীক্ষার জন্য মোট ৩৭টি কেন্দ্র করা হয়েছিল। জেলাশাসক গৌরাঙ্গ রাঠী এবং এডিএম প্রশাসন সঞ্জয় চাওলা দাবি করেছেন যে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে পরীক্ষা কঠোরভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রথম শিফটে ৫,৩৯১ জন এবং দ্বিতীয় শিফটে ৫,৪২০ জন— অর্থাৎ কেবল ঝাঁসি জেলাতেই মোট ১০,৮১১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেননি বা বর্জন করেছেন।

পরীক্ষার্থীদের কাল হলো ‘গুগল ম্যাপ’!
অন্যদিকে বদাউন জেলায় পরীক্ষা দিতে আসা শয়ে শয়ে পরীক্ষার্থী মারাত্মক বিপাকে পড়েন ‘গুগল ম্যাপস’ (Google Maps)-এর ভুল রুটের চক্করে। সীতাপুর, লখিমপুর এবং শাহজাহানপুর থেকে বদাউনের ‘ডি-পল স্কুল’ (DePaul School) কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসছিলেন পরীক্ষার্থীরা।

কিন্তু প্রযুক্তির গোলমালে গুগল ম্যাপ তাঁদের আসল স্কুলের পরিবর্তে মূসাজাগ এলাকার এক গ্রাম প্রধানের বাড়ির লোকেশন দেখাতে শুরু করে! ফলে নির্দিষ্ট সময়ে সেন্টারে পৌঁছাতে কালঘাম ছুটে যায় পরীক্ষার্থীদের, অনেকেই সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *