দিল্লিতে ৫ নভেম্বর থেকে লকডাউনের ছায়া! ৫০% কর্মীর ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সহ কড়া বিধিনিষেধ জারি!

প্রতি বছরের মতো এবারও শীতের শুরুতেই দিল্লির বাতাসে বিষ ছড়াতে শুরু করেছে বিপজ্জনক মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণ। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই এবার আগেভাগে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট কমিশন (CAQM)। দূষণের মাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছানো রুখতে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে পরবর্তী ১৫ দিনের জন্য দিল্লি এবং সংলগ্ন এনসিআর (NCR) এলাকায় সমস্ত ধরনের ধুলোবালি সৃষ্টিকারী নির্মাণকাজ (Construction) এবং ভাঙাচোরার (Demolition) কাজ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি এবং গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, সোনিপথ, গাজিয়াবাদ ও গৌতম বুদ্ধ নগর— এনসিআর-এর এই ৫টি জনবহুল জেলায় সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরগুলিকে অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (Work From Home) দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কোন কাজগুলোতে ছাড়, কোনগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ?
জরুরি পরিষেবা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে:
যেসব কাজে ছাড় থাকবে (চালু থাকবে):
রেলওয়ে ও দিল্লি মেট্রোর চলমান কাজ।
বিমানবন্দর এবং বড় আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল (ISBT)।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত নির্মাণকাজ।
পানীয় জল সরবরাহ ও পয়ঃপ্রণালী সম্পর্কিত প্রকল্প।
জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা (Defence) সংক্রান্ত নির্মাণ।
যেসব কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে:
জাতীয় সড়ক (National Highway), সাধারণ রাস্তা ও উড়ালপুল (Flyover) নির্মাণ।
ওভারব্রিজ তৈরির কাজ।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বড় লাইন ও ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন বসানোর কাজ।
মোবাইল টাওয়ার ও ইন্টারনেট লাইন পাতা সংক্রান্ত প্রজেক্ট।
হাই-টেক কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনের পরই কড়া নির্দেশ
শুক্রবার কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (CAQM) সদর দপ্তরে নবনির্মিত এক অতি-আধুনিক ‘ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’ পরিদর্শন করেন। দূষণ মনিটর করার জন্য তৈরি এই হাই-টেক কেন্দ্র পরিদর্শনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমিশন এই মেগা নির্দেশিকা জারি করে।
১ নভেম্বর থেকে চালু হচ্ছে ‘উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যান’
কমিশনের এই ১৫ দিনের বিধিনিষেধের পাশাপাশি ১ নভেম্বর থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে দিল্লি সরকারের ১০-দফা ‘উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যান’। এর অধীনে বিশেষ করে ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সমস্ত ধরনের নির্মাণ ও ভাঙাচোরার কাজ পুরোপুরি স্তব্ধ থাকবে।
দিল্লি সরকারের এই অ্যাকশন প্ল্যানের ৩টি বড় কড়া পদক্ষেপ:
১. প্রাইভেট অফিসে ৫০% ওয়ার্ক ফ্রম হোম: শহরের সমস্ত বেসরকারি সংস্থাকে অন্তত অর্ধেক কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করানোর নির্দেশ মানতে হবে।
২. পাম্পে তেল মিলবে না: যেসব গাড়ির ভ্যালিড পলিউশন সার্টিফিকেট (PUC Certificate) নেই অথবা যেসব গাড়ি নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ (Scrap) করে ফেলেছে, সেগুলিকে শহরের কোনো পেট্রোল পাম্পেই জ্বালানি দেওয়া হবে না।
৩. বিএস-৬ ছাড়া দিল্লি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: দিল্লির বাইরের রাজ্য থেকে আসা যে সমস্ত পেট্রোল ও ডিজেল চালিত গাড়ি BS-VI (बीएस-6) দূষণ মানদণ্ড পূরণ করে না, সেগুলির দিল্লি সীমান্তে প্রবেশ একবারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।