পাকিস্তানি সুন্দরীর ফাঁদে ভারতীয় সেনা জওয়ান! শিলিগুড়ি থেকে আচমকা গ্রেফতার হতেই তীব্র চাঞ্চল্য!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রহস্যময়ী এক পাকিস্তানি মহিলার সঙ্গে সন্দেহজনক যোগাযোগের অভিযোগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত ওই সেনা জওয়ানের নাম রাজবীর। শিলিগুড়ি থেকে সেনার সহায়তায় তাঁকে গ্রেফতার করার পর পরবর্তী তদন্তের স্বার্থে পঞ্জাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
কীভাবে ফাঁদে পা দিলেন জওয়ান?
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই পাকিস্তানের ওই মহিলার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় জওয়ান রাজবীরের। পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে কথোপকথন বাড়তে থাকে এবং ঘনিষ্ঠতা গভীর হয়। বিষয়টি সেনার অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও গোয়েন্দা বিভাগে ধরা পড়ার পরপরই সেনা কর্তৃপক্ষের তরফে একটি উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়। প্রাথমিক প্রমাণ মেলা মাত্রই রাজবীরের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
পঞ্জাবে নিয়ে যাওয়া হলো ধৃতকে
শুক্রবার ধৃত জওয়ান রাজবীরকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের যাবতীয় আইনি ট্রানজিট রিমান্ডের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, তাঁকে হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী তদন্তের জন্য পাঞ্জাবে নিয়ে গিয়েছে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দল।
প্রশ্নের মুখে জাতীয় নিরাপত্তা
এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের মতো একাধিক গুরুগম্ভীর প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। তদন্তকারীরা মূলত দুটি বিষয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন:
১. পাকিস্তানি ওই মহিলার আসল পরিচয় কী এবং রাজবীরের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
২. কথোপকথনের আড়ালে ভারতীয় সেনার কোনো গোপন বা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে পাচার করা হয়েছে কি না?
সেনাবাহিনীর একজন দায়িত্বরত জওয়ানের এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও হানিট্র্যাপে পড়ার ঘটনা দেশের জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে ঠিক কতটা বড় হুমকি তৈরি করল, তা নির্ধারণ করতে ইতিমধ্যেই সর্বাত্মক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন গোয়েন্দারা।