উচ্চ মাধ্যমিকে উঠে যাচ্ছে সেমিস্টার? পুরনো পরীক্ষা পদ্ধতি ফেরানো নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য!

রাজ্যজুড়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় ফের আসতে চলেছে এক বড়সড় পরিবর্তন। গত দু’বছর ধরে চালু থাকা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সেমিস্টার পদ্ধতি তুলে দিয়ে পুরনো নিয়মে পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হতে পারে পরীক্ষা পদ্ধতির এই নতুন রূপরেখা।

কেন সেমিস্টার তোলার ভাবনা?উচ্চ মাধ্যমিকে সেমিস্টার চালু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল— চারটি সেমিস্টার মিলিয়ে লাগাতার পরীক্ষার বহরে পড়ুয়ারা আসল পড়াশোনা ও মূল পাঠ্যক্রম শেখার পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না, ফলে প্রথাগত ফলাফলেও তার কোনো বিশেষ ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া এই লাগাতার অভিযোগের ভিত্তিতেই সেমিস্টার প্রথা পর্যালোচনা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা দফতর।

নতুন নেতৃত্বের বৈঠক ও পর্যালোচনার সিদ্ধান্তরাজ্যে নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে নতুন সভাপতি আসতেই এই বিষয়ে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সূত্রের খবর, সস্প্রতি বিকাশ ভবনে শিক্ষা সংসদ ও দফতরের আধিকারিকদের মধ্যে এ নিয়ে বেশ কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ের আলোচনাও হয়েছে। চার সেমিস্টারের জটিল কাঠামো বাদ দিয়ে একাদশ ও দ্বাদশের প্রথাগত প্রি-টেস্ট, টেস্ট এবং দ্বাদশ শ্রেণি শেষে এককালীন চূড়ান্ত বোর্ডের পরীক্ষা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবটি অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

কী বলছেন শিক্ষামন্ত্রী?উচ্চ মাধ্যমিকের বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে মুখ খুলে শিক্ষামন্ত্রী জানান, “বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা আমাদের জানিয়েছেন যে সেমিস্টার পদ্ধতিতে ছাত্রছাত্রীরা যথাযথভাবে উপকৃত হচ্ছে না। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত মতামতও প্রায় একই রকম। তাই এই পুরো বিষয়টি বাতিল বা সংশোধন করা উচিত কি না, তা নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা চলছে।”

তবে সেমিস্টার বাতিল সংক্রান্ত বিষয়টি এখনও পর্যন্ত পর্যালোচনার পর্যায়েই রয়েছে। আনুষ্ঠানিক সিলমোহর এবং নতুন রুটিনের চূড়ান্ত ঘোষণা কবে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের লাখো উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও শিক্ষক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *