লন্ডন থেকে চুপিচুপি দেশে ফেরা, তারপরই পুণের ফ্ল্যাটে মিলল MBA ছাত্রীর নিথর দেহ! রহস্যে ঘেরা মৃত্যুর নেপথ্যে কী?

উচ্চশিক্ষার জন্য বিলেতে পাড়ি দিয়েছিলেন তরুণী। কিন্তু পরিবারের অলক্ষ্যেই কয়েক মাস আগে লন্ডন থেকে ভারতে ফিরে এসেছিলেন তিনি। পুণের একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে একাই থাকছিলেন নিঃশব্দে। শেষ পর্যন্ত সেই বন্ধ ফ্ল্যাট থেকেই উদ্ধার হলো তাঁর নিথর দেহ। নিহত তরুণীর নাম মুগ্ধা দেশমুখ। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম শোরগোল ছড়িয়েছে।

লন্ডন থেকে আচমকা অন্তর্ধান ও নিখোঁজের ডায়েরি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছত্রপতি সম্ভাজীনগরের বাসিন্দা মুগ্ধা দেশমুখ এমবিএ পড়তে গত বছরের জুলাই মাসে লন্ডনে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি পার্ট-টাইম চাকরির পাশাপাশি একাই থাকতেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত ফোন ও মেসেজে যোগাযোগও ছিল। কিন্তু গত ২২ অক্টোবরের পর থেকে মুগ্ধার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না এবং ২৪ অক্টোবর থেকে তাঁর ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

উদ্বিগ্ন পরিবার কোনো উপায় না দেখে লন্ডন পুলিশের দ্বারস্থ হয় এবং নিখোঁজের ডায়েরি দায়ের করে। কিন্তু লন্ডন পুলিশ তদন্ত করে জানায় যে, মুগ্ধা গত আগস্ট মাসেই যুক্তরাজ্য (UK) ত্যাগ করে চলে গিয়েছেন। এই খবরে হতবাক পরিবার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও হাই কমিশনের সাহায্য নেয়।

ফুড ডেলিভারি অ্যাপের ট্রানজাকশনই দিল সূত্র!
মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে মুগ্ধার বাবা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখা শুরু করেন। তখনই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য! দেখা যায়, ৮ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে একটি জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে একাধিক টাকার লেনদেন হয়েছে। খাবার ডেলিভারি হয়েছিল ছত্রপতি সম্ভাজীনগরের ওসমানপুরা এলাকা এবং পুণের আশপাশের কিছু জায়গায়। ব্যাঙ্কের এই লেনদেন দেখে পরিবার নিশ্চিত হয় যে মুগ্ধা লন্ডনে নেই, তিনি ভারতের মাটিতেই রয়েছেন।

বন্ধ ফ্ল্যাটে মিলল নিথর দেহ
ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ও প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ তরুণীর টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করা শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, পুণের গাহুঞ্জে এলাকার ‘লোধা বেলমন্ডো’ হাই-রাইজ কমপ্লেক্সের একটি ফ্ল্যাটে রয়েছেন মুগ্ধা।

পুলিশ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সেই ফ্ল্যাটে পৌঁছায়। ফ্ল্যাটটি ভেতর থেকে তালাবন্ধ থাকায় একজন চাবিওয়ালার সাহায্যে বিকল্প চাবি বানিয়ে দরজা খোলা হয়। ঘরের দরজা খুলতেই ভেতরে মুগ্ধার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তদন্তে পুলিশ
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, বাইরে থেকে মুগ্ধার শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই পুণের এই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন মুগ্ধা, তবে থাকতে শুরু করেন আগস্ট মাসে। পরিবারকে কিছু না জানিয়ে কেন তিনি বিলেত থেকে এভাবে আত্মগোপন করে ভারতে ফিরে এলেন এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো—তা নিয়ে চরম রহস্য তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *