মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে হঠাতে ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’! পাল্টা রাহুল-অখিলেশকে সংসদ ভবন উড়িয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ অমিত শাহের!

এসআইআর (SIR) বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি এখন চরম উত্তাল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ বা জনসমক্ষে অভিশংসন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। শনিবার এই বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে হাত শিবিরের অন্দরে। আর ঠিক তার আগেই কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবিরকে এক হাত নিয়ে সরাসরি সংসদীয় বিতর্কের চরম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
উত্তরপ্রদেশের লখনউতে এক দলীয় বৈঠকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবকে সরাসরি নিশানা করেন শাহ।
কী চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অমিত শাহ?
লখনউয়ের বৈঠকে আক্রমণ শাণিত করে অমিত শাহ বলেন, “আপনাদের দু’জনকে আমি এখান থেকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। এই বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে বিজেপি পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের লুকানোর মতোচ্ছু নেই। আসুন, সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মোদী সরকার বা বিজেপি যেকোনো বিষয়ে বিতর্কে প্রস্তুত থাকলেও বিরোধীরা কেবল হট্টগোল পাকিয়ে সংসদ অচল করে রাখতে চায়। তাদের আসল উদ্দেশ্য গঠনমূলক আলোচনা নয়, বরং সংসদীয় প্রক্রিয়া ব্যাহত করা। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে শাহের দাবি, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই বিরোধীরা বুঝে গিয়েছে যে আগামী দিনে জয়ের আর কোনো সম্ভাবনা নেই, তাই এখন ভিত্তিহীন ‘ভোট চুরি’র জিগির তুলে নজর ঘোরানোর চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক একদিন পরেই শাহ এই জোরালো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন। সদ্য সমাপ্ত ওই নির্বাচনে বিজেপি ৬টি এবং সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ৫টি আসনে জয়লাভ করেছে। যদিও এই ফলাফল নিয়ে এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব একে বিজেপির নৈতিক পরাজয় বলে দাবি করেছেন।
শনিবার খাড়্গের বাড়িতে হাইভোল্টেজ ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’
এদিকে, রবিবারে রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের মেগা সমাবেশের ঠিক আগে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে বসল হাইভোল্টেজ আসর। খাড়্গের বাড়িতেই আয়োজিত হচ্ছে প্রতীকী ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি। এই বিশেষ আয়োজনে স্পিকারের ভূমিকা পালন করছেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার।
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো— কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে আসন্ন দিনে কোন কোন বড় ইস্যুতে সুর চড়ানো হবে, তার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন সাধারণ মানুষও। বিশেষ করে এসআইআর তালিকায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তেমন দুজন সাধারণ ভোটার এই মঞ্চ থেকেই তাঁদের ক্ষোভ ও অভিজ্ঞতা সকলের সামনে তুলে ধরবেন। সব মিলিয়ে রবিবারের মেগা সমাবেশের আগে শনিবারের এই কর্মসূচি জাতীয় রাজনীতিতে বড় রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়াচ্ছে।