টনে টনে বিষাক্ত মরা মাছ ঢুকছে বাজারে! মন্ত্রী নিজেই দিলেন চরম সতর্কবার্তা, পাতে নেওয়ার আগে সাবধান!

উত্তরবঙ্গের নদীতে হঠাৎই সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি। নদী থেকে তোলা হচ্ছে টনে টনে মরা মাছ, আর সেই বিষাক্ত মাছ ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের একাধিক স্থানীয় বাজারে। বিষয়টি নজরদারিতে আসার পর প্রশাসন নদীর মাছ নষ্ট করার কাজ শুরু করলেও, তার আগেই বিরাট পরিমাণ মাছ সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে পৌঁছে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বনমন্ত্রী মনোজ ওরাঁও স্পষ্ট দাবি করেছেন— এই মাছগুলির মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক কারণে হয়নি।

কোথা থেকে এল এই মরা মাছ?
সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ ভুটানে ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে একটি হ্রদ ফেটে গিয়ে চরম বিপর্যয় ঘটে। সেই ঘটনার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে লাল সংকেত জারি ছিল। এরই মধ্যে অসম-বাংলা সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত সঙ্কোশ নদীতে শুক্রবার গভীর রাতে আচমকা এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতারাতি নদীর জল কুচকুচে কালো হয়ে যায় এবং কালচে জলের প্রবল স্রোতে ভুটানের দিক থেকে ভেসে আসতে থাকে অগণিত মরা মাছ। জলের স্তর স্বাভাবিক থাকলেও মাছের এই গণমৃত্যু ও জলের রঙ বদলে যাওয়ায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেতেই ঘটনাস্থলে মন্ত্রী
ঘটনার খবর পেয়েই শনিবার সকালে কুমারগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও সঙ্কোশ নদী সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে পৌঁছান। তিনি স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে বনমন্ত্রী জানান, “ভুটানের বিপর্যয়ের পর থেকেই প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল। তবে জলের স্তর স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার রাতে জল কালো হয়ে এত বিপুল পরিমাণ মরা মাছ ভেসে আসা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।”

বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে মাছ, ক্রেতাদের দেখেশুনে কেনার পরামর্শ
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, নদীতে মরা মাছ ভেসে আসতে দেখে বহু স্থানীয় বাসিন্দা তা জল থেকে তুলে সংগ্রহ করতে শুরু করেন এবং সেই মাছ বাজারে বিক্রি করতে পাঠান।

এ বিষয়ে চরম সতর্কতা জারি করে বনমন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যেই কয়েক টন মাছ বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে গেছে। এটি সাধারণ মানুষের খাবারের পাতে পৌঁছালে বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বা বিষক্রিয়া ঘটতে পারে। কারণ কীটনাশক বা কোনো বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাবেই এত মাছের মৃত্যু হয়েছে। তাই নদীতে ভেসে আসা এই মাছ কোনোভাবেই খাওয়া বা বিক্রি করা যাবে না।” একইসঙ্গে তিনি রাজ্যবাসীকে বাজার থেকে মাছ কেনার সময় ভালো করে দেখে-শুনে ও সতর্ক হয়ে কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *