৮ অগাস্টের শপথের মাস্টারপ্ল্যান ৫ অগাস্টের আগেই? হাসিনার পতন নিয়ে ইউনূসের প্রাক্তন প্রেস সচিবের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি!

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট—ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মুখে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তড়িঘড়ি দেশ ছেড়েছিলেন তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ঠিক দু’দিন পর, ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে এবার সামনে এল এক চরম চঞ্চলকর তথ্য! শেখ হাসিনা ঢাকা ছাড়ার আগেই নাকি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকারপ্রধান হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূসকে বেছে নেওয়ার সমস্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি এমনই বিস্ফোরক দাবি করে আন্তর্জাতিক মহলে তুমুল আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন ইউনূসের প্রাক্তন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
হাসিনা ক্ষমতায় থাকতেই গোপন যোগাযোগ! প্রাক্তন প্রেস সচিব শফিকুল আলমের দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্টের গোড়ার দিকে যখন আন্দোলন তুঙ্গে, তখন শেখ হাসিনা সরকার পতনের ঠিক দু’দিন আগেই আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা আড়ালে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন ড. ইউনূসের সঙ্গে। তখনো ক্ষমতা চ্যুত হননি হাসিনা, অথচ আন্দোলনকারীরা ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি করতে ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার সরাসরি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন।
যেভাবে তৈরি হয়েছিল যোগাযোগের সাঁকো এই গোপন ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর যোগাযোগের পেছনে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেছেন শফিকুল আলম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারী ছাত্রনেতা এবং ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস’ (AFP)-এর এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ড. ইউনূসের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছানো হয়।
পরবর্তীতে ৫ অগাস্ট পরিস্থিতি চূড়ান্ত আকার ধারণ করলে এবং শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর, সেই আগাম পরিকল্পনা অনুযায়ী ড. ইউনূসের নেতৃত্বেই নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হয়। প্রাক্তন প্রেস সচিবের এই সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি বাংলাদেশি রাজনীতি এবং তৎকালীন গণঅভ্যুত্থানের পেছনের মূল স্ক্রিপ্ট নিয়ে নতুন করে বড়সড় বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।