জোড়াফুল ভাঙার ভূত মাথায়! ঋতব্রত শিবির ছেড়ে এবার মমতাপন্থীদের দারে দারে বিদ্রোহী বিধায়করা?

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক পরেই রাজ্য রাজনীতিতে ঘটে গিয়েছিল এক অভাবনীয় রাজনৈতিক ভূমিকম্প। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন তৃণমূলের সিংহভাগ বিধায়ক। সেই চরম বিদ্রোহ ও অন্তর্কোন্দলের জেরে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল রাজ্যের শাসক দল জোড়াফুল শিবির। আইনি টানাপোড়েন ও বিরোধিতার জেরে আপাতত ঠান্ডা ঘরে চলে গিয়েছে তৃণমূলের ঐতিহ্যবাহী জোড়াফুল প্রতীকও। বাধ্য হয়েই পরবর্তীতে মমতা তৃণমূল এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল—এই দুই আলাদা পরিচয়েই উপনির্বাচনের ময়দানে নামতে হয়েছিল দুই পক্ষকে।
তবে রাজনীতির সমীকরণ বদলাতে খুব বেশি সময় লাগে না। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলছে, হ্লাদিনী হাওয়া বদলের সঙ্গে সঙ্গেই আচমকাই সেই বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি বড় অংশ ফের পুরনো শিবির অর্থাৎ কালীঘাটের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।
কারা ফিরছেন ঘরের টানে? রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, ঋতব্রত শিবিরের মোহভঙ্গ ঘটিয়ে ইতিমধ্যেই ‘মমতা তৃণমূলে’ ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছেন বিধায়ক কাশেম সিদ্দিকি, তৌসিফউর রহমান এবং আব্দুল মাতিন। শুধু তাই নয়, দলবদলু ও বিদ্রোহী শিবিরের অন্দরে থেকেও ইতিমধ্যেই সুর নরম করতে শুরু করেছেন হামিদুর রহমান, কাজল শেখ, মিনহাজুল আফরিন আজাদের মতো হেভিওয়েট নেতারাও।
সজাগ ও সতর্ক কালীঘাট শিবির, তৈরি হচ্ছে ‘তালিকা’ বিদ্রোহী বিধায়কদের মনোভাবের এই ভোলবদল ও ব্যাকফুটে চলে যাওয়ার প্রবণতা দেখেই তড়িৎ গতিতে আসরে নেমেছে কালীঘাট নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, ঋতব্রত শিবিরে গিয়ে যাঁরা একসময় বড় বড় হুংকার দিয়েছিলেন এবং এখন পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ফের ঘরের টানে ফিরতে চাইছেন, তাঁদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা শুরু হয়েছে।
কোন কোন বিদ্রোহী বিধায়ককে পুনরায় দলে স্বাগত জানানো হবে এবং কাদের জন্য দলীয় দরজা চিরতরে বন্ধ থাকবে—তার একটি কঠোর স্ক্রুটিনি তালিকা তৈরি রাখছে কালীঘাট তৃণমূল। প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার এই লড়াইয়ের মাঝে দলত্যাগী নেতাদের এই ঘরে ফেরার হিড়িক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে কোন মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার!