‘জন্মভূমি’ সিরিয়ালের সেই মেগা সিক্রেট ফাঁস! যা শুনে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে, বড় স্বীকারোক্তি ভাস্কর চট্টোপাধ্যায়ের

ছোটপর্দার সোনালী স্মৃতির কথা উঠলেই আজও দর্শকদের মনে সবার আগে যে মেগা ধারাবাহিকটির নাম ভেসে ওঠে, তা হলো ‘জন্মভূমি’। নব্বই ও দুই হাজারের দশকের শুরুর দিকের সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকের চরিত্র ও সংলাপ আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। সেই মেগা প্রজেক্টে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন অভিনেতা ভাস্কর চট্টোপাধ্যায়ও। কিন্তু ক্যামেরার পেছনের সেই পথচলা যে কতটা কঠিন এবং লড়াইয়ে ভরা ছিল, তা এতদিন অজানাই ছিল। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পুরনো স্মৃতি শেয়ার করে সেই কঠিন সংগ্রামের কথাই প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেতা।

মমতা শঙ্করের পাঠানো একটি ছবি থেকে উস্কে গেল স্মৃতি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী মমতা শঙ্করের সঙ্গে ‘জন্মভূমি’-র সেটের একটি পুরনো ছবি শেয়ার করেছেন ভাস্কর। ওই ছবিটির পেছনের আবেগঘন গল্প বলতে গিয়ে অভিনেতা জানান, সেই সময় এই মেগায় সুযোগ পাওয়ার জন্য তাঁকে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। বহুবার তাঁকে অডিশনের জন্য ডাকা হতো। পরিচালক চিত্রনাট্য হাতে ধরিয়ে বলতেন, আধ ঘণ্টার মধ্যে মুখস্থ করে দেখাতে। নিজের স্মৃতিশক্তির জোরে তিনি ঠিক তা করে দেখাতেন, এক লাইন এদিক-ওদিক হতো না। তা সত্ত্বেও প্রতিবারই তাঁকে বাদ পড়তে হতো, যা তাঁর মনে গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছিল।

জন্ডিস ও ১৩.৬ বিলিরুবিন নিয়ে সোজা শ্যুটিং ফ্লোরে! কিন্তু ভাগ্যে যা থাকে, তা এড়ানো যায় না। অবশেষে ‘জন্মভূমি’তে জেনারেশন লিপের পর মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ এল তাঁর কাছে। কিন্তু সেই সুযোগ এল এমন এক সময়ে, যখন শারীরিক অবস্থা ছিল একেবারে বিপর্যস্ত। ভগৎ সিংয়ের ডাবিং শেষ করে কলকাতা ফেরার পর তাঁর জন্ডিস ধরা পড়ে। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা পৌঁছে যায় ১৩.৬-এ! চিকিৎসকরা তাঁকে তক্ষুনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কিন্তু জীবনের এত বড় সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি ছিলেন না তরুণ ভাস্কর। অড়হর পাতার রস খেয়ে কিছুটা ধাতস্থ হয়ে, শরীর একেবারে দুর্বল থাকা সত্ত্বেও তিনি সোজা হাজির হন শ্যুটিং সেটে। বাড়িতে তৈরি খাবার ও বিশেষ জল সঙ্গে নিয়ে চলত তাঁর লড়াই। শ্যুটিং ফ্লোরে মাঝেমধ্যেই মাথা ঘুরে অন্ধকার দেখতেন, শারীরিক কষ্ট সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যেত—তবুও জেদের বশে কাউকে তা বুঝতে দেননি।

পোস্ট করা ওই পুরনো ছবির দিকে ইঙ্গিত করে ভাস্কর লিখেছেন, ভালো করে লক্ষ্য করলে সেই ছবির চোখেও জন্ডিসের হালকা হলুদ আভা স্পষ্ট দেখা যাবে। তবে সেকথা সেদিন সেটের কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। শ্যুটিং শেষ হওয়ার অনেক পরে সহ-শিল্পীদের কাছে তিনি এই গোপন কথাটি শেয়ার করেছিলেন। আজ দীর্ঘ সময় পর প্রথমবার সেই রোমহর্ষক ও ত্যাগস্বীকারের গল্প সবার সামনে আনলেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা, যা শুনে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন তাঁর অনুরাগীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *