আমির খানের বিপরীতে নায়িকা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ! শেষ মুহূর্তে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন আলিশা চিনাই?

‘কায়ামত সে কায়ামত তক’-এর অডিশন দিয়েও অভিনয় জগৎ থেকে সরে আসেন আলিশা চিনাই! ফাঁস করলেন অজানা গল্প

মুম্বই: গানের দুনিয়ায় তাঁর গলার জাদুতে বুঁদ হয়ে রয়েছে কয়েক প্রজন্ম। একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন সুরের রানি। তবে জানেন কি, কেরিয়ারের শুরুর দিকে অভিনয়ের জগতেও পা রাখার সুযোগ পেয়েছিলেন জনপ্রিয় গায়িকা আলিশা চিনাই? এমনকি আমির খানের বিপরীতে অভিনয় করার দরজা প্রায় খোলাই ছিল তাঁর সামনে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঠিক কী কারণে সেই সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি? সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেই অজানা ও চমকপ্রদ কাহিনি প্রকাশ্যে এনেছেন গায়িকা নিজেই।

আমিরের সঙ্গে স্ক্রিপ্ট রিডিং ও অডিশনের স্মৃতি সম্প্রতি একটি পডকাস্টে আলাপচারিতায় আলিশা জানান, গান গাওয়ার পাশাপাশি একসময়ে অভিনেত্রী হওয়ার সুপ্ত বাসনাও তাঁর মনে ছিল। সেই সুবাদেই ১৯৮৮ সালের কালজয়ী ছবি ‘কায়ামত সে কায়ামত তক’-এর জন্য অডিশন দিতে গিয়েছিলেন তিনি। যে ছবিতে পরবর্তীতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে গিয়েছিলেন আমির খান ও জুহি চাওলা।

আলিশার স্মৃতিচারণায় উঠে আসে, অডিশনের সময় স্বয়ং আমির খান তাঁর সঙ্গে সিনেমার সংলাপের মহড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু অডিশন দিয়ে বাড়ি ফেরার পরেই অভিনয় কেরিয়ার নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন তিনি। তখনই গায়িকা উপলব্ধি করেন, মেকআপ ও লাইট-ক্যামেরার এই দুনিয়া তাঁর মনের মতো নয়। বিশেষ করে ক্যামেরার সামনে নির্দেশমতো চোখের জল ফেলা বা কৃত্রিমভাবে আবেগ ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি তাঁকে ভীষণভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।

কেন হাতছাড়া হলো সেই বড় সুযোগ? আলিশার কথায়, পরিচালক বা ক্যামেরার ইশারায় যখন খুশি কেঁদে ফেলা তাঁর পক্ষে অসম্ভব ছিল। বলিউডের চকচকে দুনিয়ায় অভিনয়ের বহু বিষয়কেই তাঁর যথেষ্ট কৃত্রিম ও অবাস্তব বলে মনে হয়েছিল। আর সেই কারণেই চিরকালের মতো অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন থেকে দূরে সরে আসার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

অডিশনের প্রাথমিক ধাপ পেরিয়ে একেবারে চূড়ান্ত রাউন্ডে পৌঁছে গিয়েছিলেন আলিশা। এমনকি সেই পর্যায়ে তাঁর সঙ্গে চূড়ান্ত লড়াইয়ে ছিলেন স্বয়ং জুহি চাওলাও। কিন্তু শেষ অডিশনের দিন তিনি আর হাজির হননি। গায়িকার সেই আচমকা পিছু হঠার সিদ্ধান্তে নাকি বেশ অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন খোদ আমির খান। যদিও পরবর্তীতে আলিশা যখন অভিনয় নিয়ে নিজের অনীহার কথা আমিরকে বোঝান, তখন অভিনেতা পরিস্থিতি বুঝে খুশিই হয়েছিলেন।

আলিশা জানান, সেদিন অডিশনের দিন তাঁর শরীরও কিছুটা খারাপ ছিল। তবে কেবল শারীরিক অসুস্থতা নয়, বরং অভিনয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ না করাই ছিল তাঁর সরে আসার মূল কারণ। আজ সুদীর্ঘ সময় পর পেছনের দিকে তাকিয়ে সেই ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া করাকে হাসিমুখে ‘বড় ভুল’ বলে রসিকতাও করেছেন জনপ্রিয় এই গায়িকা। অন্যদিকে, ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কায়ামত সে কায়ামত তক’ আমির ও জুহির কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, যা আজও বলিপাড়ার অন্যতম মাইলফলক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *