“দুর্নীতির সমস্ত টাকা গিয়েছে কালীঘাটে!” স্বাস্থ্যসাথীর ৩০ হাজার কোটির তছরুপ নিয়ে বোমা ফাটালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পর এবার রাজ্যের মেগা স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’ (Swasthya Sathi)-কে ঘিরে চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের হদিশ মিলেছে, যার মাধ্যমে তছরুপ হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি! রোগীর কোনো অস্তিত্ব নেই অথচ চিকিৎসা চলছে, নার্সিংহোম নেই কিন্তু অপারেশন হয়ে গেছে—এমন সব ভূতুড়ে ও চাঞ্চল্যকর কাণ্ডের কথা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এক বিস্ফোরক অভিযোগে জানিয়েছেন, এটি দুর্নীতির হিমশৈলের চূড়ামাত্র। এই বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির অর্থ ঠিক কোথায় যেত, সে প্রশ্ন তুলে তাঁর সরাসরি দাবি, এই দুর্নীতির মানি ট্রেল সোজা পৌঁছেছে কালীঘাট বা শাসক দলের পার্টি অফিসে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা এই অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অতীতে কেন কেউ এই দুর্নীতির খোঁজ রাখেনি, তার অর্থনৈতিক অডিট বা চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে।

কীভাবে ফাঁস হলো এই দুর্নীতির জাল?

স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বর্ধমানের একটি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালের বিল খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রথম এই অনিয়ম নজরে আসে। দেখা যায়, প্রায় ১৪৪টি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সঙ্গে চিকিৎসার আসল বিলের কোনো মিল নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় রাজ্যের দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলার একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমকে শোকজ করা হয়।

তদন্তে নেমে দেখা যায়—

  • যে সমস্ত রোগীর নামে বিল পাশ হয়েছে, আদতে তাঁদের কোনো অস্তিত্বই নেই।

  • রোগের বিবরণ পরিবর্তন করে অন্য চিকিৎসার নামে বিল তোলা হয়েছে।

  • যে নামী নার্সিংহোমের নামে বিল তৈরি হয়েছে, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্বই নেই এবং সেই ভুয়ো বিলে সই করেছেন ভুয়ো চিকিৎসকরা।

ইতিমধ্যেই এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুটি থার্ড-পার্টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (TPA)-কে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত বিমা কোম্পানিগুলিকে চিহ্নিত করে ফাইন্যান্সিয়াল ফরেন্সিক অডিট শুরু করেছে প্রশাসন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে এমন হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য সামনে আসায় তীব্র রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *