“১২ হাজার কোটির ক্ষতি হবে”-কংগ্রেস নেত্রী সনিয়ার কাছে আর্জি ব্যবসায়ীদের

উৎসবের মরশুমে স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে রাজধানীর পুরো অর্থনীতি! আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ১০ লক্ষ মানুষের সমাগমে মহা সমাবেশের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু এই সমাবেশ ঘিরে মহা বিপাকে পড়েছেন দিল্লির সাধারণ ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ধনতেরস ও দীপাবলির ঠিক মুখে এই ধরনের সুবৃহৎ সমাবেশের ফলে প্রতিদিনের হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা কার্যত ঠপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) চিঠি লিখেছে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীকে। সমাবেশ পিছিয়ে ১০-১১ নভেম্বরের পরে করার আর্জি জানানো হয়েছে চিঠিতে।
সিটিআই-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল আকুল আবেদন জানিয়ে বলেছেন, “আমরা রাজনৈতিক সমাবেশের কোনো বিরোধিতা করছি না। দীপাবলির মতো বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত মরশুমে নিজেদের রুজি-রোজগার বাঁচাতে হাতজোড় করে আর্জি জানাচ্ছি।”
কেন আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা? সনিয়া গান্ধীকে পাঠানো চিঠিতে ৪টি মূল উদ্বেগ
১. বিশালাকার যানজট ও পার্কিং সংকট
রামলীলা ময়দানে সর্বোচ্চ ২০০টি বাস দাঁড়ানোর পার্কিং স্পেস রয়েছে। অথচ ১০ লক্ষ মানুষের সমাবেশে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ হাজার বাস, ট্রাক ও টেম্পো আসবে। এই বিপুল গাড়ি জওহরলাল নেহরু মার্গ, বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ, নেতাজি সুভাষ মার্গ, আজমেরি গেট ও চাঁদনি চক রোড-সহ প্রধান রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়লে পুরো মধ্য ও পুরনো দিল্লিতে লকডাউনের মতো অচলাবস্থা তৈরি হবে।
২. ২০টি ঐতিহাসিক বাজারের ১২,০০০ কোটি টাকার বাণিজ্য বিপন্ন
রামলীলা ময়দানের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে চাঁদনি চক, সদর বাজার, কনট প্লেস, খারি বাওলি, ভাগীরথ প্যালেস, করোলবাগ ও গফফর মার্কেটের মতো ২০টি ৩০০ বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী বাজার রয়েছে। প্রতিদিন এই বাজারগুলোতে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার পাইকারি ও খুচরো কেনাবেচা হয়। সংলগ্ন ৫৬টি শিল্পাঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৮,০০০ ট্রাক-টেম্পো থমকে গেলে সারা দেশের সামগ্রী সরবরাহ ব্যাহত হবে।
৩. প্রভাব পড়বে ৩১ অক্টোবর থেকেই
১ নভেম্বরের সমাবেশ হলেও ৩১ অক্টোবর দুপুর থেকেই সিংঘু, টিকরি, গাজিপুর ও বদরপুর সীমান্ত দিয়ে বহু বাস ও গাড়ি ঢুকতে শুরু করবে। রাস্তা ব্যারিকেড করায় ৩১ অক্টোবর থেকেই পণ্যবাহী গাড়ি আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক কাজ করছে।
৪. ১০ অক্টোবরের তিক্ত অভিজ্ঞতা
ব্যবসায়ীদের দাবি, গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে মাত্র ৫-৭ হাজার মানুষের জমায়েতেই ৮ ঘণ্টা পুরো মধ্য দিল্লি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেখানে ১০ লক্ষ মানুষের সমাবেশ হলে রাজধানীর পুরো পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
ব্যবসায়ীদের জোড়া বিকল্প প্রস্তাব
উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের রুটিরুজি ও বিপুল আর্থিক ক্ষতি বাঁচাতে সনিয়া গান্ধীর কাছে স্পষ্ট দুটি প্রস্তাব রেখেছেন ব্যবসায়ীরা:
-
সমাবেশটি আগামী ১০ বা ১১ নভেম্বরের পর (দীপাবলি মিটে গেলে) আয়োজন করা হোক।
-
তারিখ পরিবর্তন না করা গেলে, সমাবেশটি শহরের বাইরে বুরারি ময়দানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক, যেখানে ১৫,০০০ গাড়ি পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।
সিটিআই চেয়ারম্যানের কথায়, রাহুল গান্ধীকে তিনটি চিঠি লিখেও কোনো সমাধান মিলেনি। তাই ব্যবসায়ীদের শেষ ভরসা এখন সনিয়া গান্ধী, যিনি সর্বদা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনা করে এসেছেন। এখন দেখার, কংগ্রেস নেতৃত্ব ব্যবসায়ীদের এই আর্জিতে কতটা সাড়া দেয়।