৪৯ কোটি মানুষ মুক্ত দারিদ্র্য থেকে! বিশ্বব্যাঙ্কের নতুন রিপোর্টে তোলপাড়, ভারত কি ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে?

বিশ্বজুড়ে বদলে যাচ্ছে অর্থনৈতিক মানচিত্র, আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে এবার ভারত। দেশের দারিদ্র্য নিরসন ও কর্মসংস্থান নিয়ে সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক তথ্য সামনে এনেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। বিশ্বব্যাঙ্কের অক্টোবর ২০২৬ ‘দারিদ্র্য ও সমতা বিষয়ক সংক্ষিপ্ত বিবরণ’ (Poverty and Equity Brief) শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে আশাতীত দ্রুতগতিতে দারিদ্র্যের হার হ্রাস পাচ্ছে।
৪৯.৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যমুক্তপ্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতের প্রায় ৪৯.৬ কোটি (৪৯৬ মিলিয়ন) মানুষ দারিদ্র্যসীমার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এই একই সময়কালে দেশে চরম দারিদ্র্যের হার ২৭.১ শতাংশ থেকে অভূতপূর্বভাবে কমে মাত্র ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
মধ্যবিত্তের আয়ের রেখায় বিরাট লাফবিশ্বব্যাঙ্কের ২০২১ সালের ‘পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি’ (PPP) সূচক অনুযায়ী, দৈনিক ৪.২০ ডলার (প্রায় ৩৫০ টাকা) নিম্ন-মধ্য আয়ের দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা ভারতীয়দের অনুপাতও ব্যাপক হারে কমেছে। পূর্বে যেখানে ৫৭.৭ শতাংশ মানুষ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৬.১ শতাংশে। অর্থাৎ দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ সফলভাবে এই সীমা অতিক্রম করে নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছেন।
কীভাবে এল এই বিরাট সাফল্য?বিশ্বব্যাঙ্ক তাদের পর্যালোচনায় দারিদ্র্য হ্রাসের পেছনে বেশ কয়েকটি অনুঘটকের কথা তুলে ধরেছে:
-
দৈনিক মজুরি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে আনুমানিক ১৩.৪ কোটি (১৩৪ মিলিয়ন) মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে, যা আগের পঞ্চবার্ষিক চালচিত্রের দ্বিগুণ।
-
গ্রামীণ মহিলাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা: দেশের বিশেষত গ্রামীণ মহিলারা ঘরের চার দেয়াল টপকে ব্যাপকভাবে স্বনির্ভর ও উপার্জনক্ষম কাজে যুক্ত হয়েছেন। এর ফলে পরিবারে একাধিক উপার্জনকারী সদস্য তৈরি হওয়ায় সংসারের আর্থিক সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়েছে।
-
সরকারি ভর্তুকি ও সামাজিক সুরক্ষা: খাদ্যসামগ্রীর ওপর বিনামূল্যে বা কম খরচে সরকারি সহায়তা এবং বিভিন্ন আর্থিক সুরক্ষা প্রকল্প সাধারণ মানুষের পকেটের স্বস্তি ফিরিয়েছে।
২০২৮ সালে কোথায় দাঁড়াবে ভারত? বিশ্বব্যাঙ্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দৈনিক ৪.২০ ডলার ন্যূনতম আয়ের ভিত্তিতে দারিদ্র্যের হার আগামী ২০২৬ সালের ১৪.২ শতাংশ থেকে আরও কমে ২০২৮ সালের মধ্যে ১২.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। সব মিলিয়ে ভারতের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক পরিষেবার সুযোগ পৌঁছানোয় জীবনযাত্রার মান এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে।