‘শেষ ৫ বছরে ও কোনও কথাই শুনতো না…’ ইন্দ্রনীলকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি কল্যাণের

ইউনেস্কো (UNESCO)-র লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে দুর্গাপূজার পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। আর ঠিক এই আবহাতেই দলীয় সতীর্থ তথা প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম টেনে এনে কল্যাণের সোজা বক্তব্য, “শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একা দায়ী করলে হবে না, পেছনে আরও অনেকে পর পর রয়েছে।”

‘গত ৫ বছর ধরে কারও কথাই শুনত না ইন্দ্রনীল’

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইন্দ্রনীলের একাধিক পদক্ষেপ দলকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, “বলতে বাধ্য হচ্ছি, বাংলার এক বিশিষ্ট ও অত্যন্ত খ্যাতনামা গায়িকাকেও ও (ইন্দ্রনীল) বাদ দিয়ে দিয়েছিল। সেই শিল্পী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছিলেন, কোথাও অভিযোগ জানাননি। পরে দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গে কথা বলে আমি তাঁকে ফেরানোর ব্যবস্থা করি।” কল্যাণ আরও যোগ করেন, “গত ৫ বছরে ও কারও কোনো কথাই শুনত না। আমি তো মনে করি, কোনো রাজনৈতিক দলেরই ৫ থেকে ১০ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।”

‘বুদ্ধদেবের ব্লু-আইড বয় যেভাবে দিদির প্রিয় হয়ে উঠল…’

একসময় ইন্দ্রনীল সেনের গানের অনুরাগী ছিলেন জানিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ স্মৃতিচারণ করেন, “৯০-এর দশকে ওর গান শোনার জন্য পাগল ছিলাম। তখন শ্রীকান্ত ও ইন্দ্রনীলের মধ্যে জোর টক্কর চলত। কিন্তু ও যখন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ‘ব্লু-আইড বয়’ হয়ে উঠল, তখন থেকেই ভালোলাগা কমতে থাকে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্য লেগেছিল, সেই লোকটাই কীভাবে রাতারাতি আবার দিদিরও ‘ব্লু-আইড বয়’ হয়ে গেল!”

দুর্নীতি প্রসঙ্গে দলের সততা ও বেদনা

তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা নিয়ে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে কল্যাণ বলেন, “আমরা লক্ষ লক্ষ কর্মী সততার সঙ্গে দলটা করেছি। যারা ক্ষমতাহীন, যারা দিদিকে দেখে দলকে ভালোবাসে—তাদের বিরুদ্ধে তো কোনো অভিযোগ নেই! কিন্তু যারা ক্ষমতার শীর্ষে ছিল, তা সে মন্ত্রীই হোক বা পঞ্চায়েত-পুরসভার প্রতিনিধি, অভিযোগগুলো তাদের বিরুদ্ধেই আসছে। এটা সাধারণ কর্মীদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”

কী এই ইউনেস্কো পাস কেলেঙ্কারি?

উল্লেখ্য, অভিযোগ উঠেছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে কলকাতার নামী ২৪টি দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ইউনেস্কো (UNESCO)-র লোগো ব্যবহার করে অবৈধভাবে পাস বিক্রি করা হয়েছিল। সাধারণ দর্শকদের দর্শনে বাধা দিয়ে ১৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত চড়া মূল্যে পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। আর সেই মামলাতেই বর্তমানে গরাদের পেছনে দিন কাটছে গায়ক-রাজনীতিবিদ ইন্দ্রনীল সেনের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *