‘বোতলের দৈত্যকে বের করে এখন পস্তাতে হচ্ছে!’ বিজেপি ইস্যুতে বামেদের কড়া আত্মসমালোচনার ডাক কুণাল ঘোষের

রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে ফের একবার বামেদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, একসময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির আক্রমণ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অতিসক্রিয়তা এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গকে ঘিরে বামেদের একাংশকে উল্লাস করতে বা মজা নিতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সময়ের চাকা ঘুরতেই পরিস্থিতি যে সম্পূর্ণ বদলে গেছে, তা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বাম শিবির। এদিনের মন্তব্যে কুণাল বামেদের আত্মসমালোচনা করার জোরালো দাবি তোলেন।

লেনিন সরণি থেকে আদালত চত্বর: বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
কুণাল ঘোষের অভিযোগ, সাম্প্রতিককালে একাধিক এমন ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে বিজেপির চরম অসহিষ্ণুতা ও আক্রমণাত্মক নীতির শিকার হয়েছে খোদ বামপন্থীরাও। লেনিন সরণির নাম পরিবর্তনের বিতর্ক থেকে শুরু করে প্রকাশ্য বইয়ের স্টলে হামলা এবং সম্প্রতি আদালত চত্বরে বামপন্থী নেতা ও আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনার উদাহরণ টেনে কুণাল প্রশ্ন তোলেন, এই ঘটনার পরেও কি বামেদের টনক নড়েনি? এই পরিস্থিতিতে বিজেপির রাজনৈতিক চরিত্র ও ভূমিকা নিয়ে বামেদের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মনে করেন তিনি।

‘বোতলের দৈত্য’ তত্ত্ব ও কুণালের কটাক্ষ
বামেদের রণকৌশলকে নিশানা করে কুণাল ঘোষ একটি জনপ্রিয় প্রবাদ টেনে বলেন, “বোতলের দৈত্যটাকে এইভাবে বের করে ফেলা উচিত হয়নি।” তাঁর মতে, অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসকে কোণঠাসা করতে গিয়ে বামেদের একাংশ পরোক্ষভাবে বা প্রত্যক্ষভাবে যে কৌশল নিয়েছিল, তা আদতে বিজেপিকেই রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তুলেছে। বামপন্থীরা যদি সঠিক সময়ে তাদের মূল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারত এবং সেই অনুযায়ী লড়াই চালাত, তবে রাজ্যে বিজেপির এই রকেট গতিতে উত্থান এতটা সহজ হতো না।

কুণাল ঘোষের এই তীব্র রাজনৈতিক আত্মসমালোচনার আহ্বান এবং ‘বোতলের দৈত্য’ সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা ও তরজা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *