কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট কাটলেই মিলবে ১০ লক্ষ টাকার বিমা! খরচ মাত্র ৪৫ পয়সা, জানুন পদ্ধতি

রেল যাত্রীদের জন্য এক দারুণ সুখবর নিয়ে এল ভারতীয় রেলওয়ে। এতদিন ধরে অনলাইনে আইআরসিটিসি (IRCTC)-র মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট কাটলে যে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স বা ভ্রমণ বিমার সুবিধা পাওয়া যেত, এবার থেকে সেই একই সুবিধা মিলবে রেলের সংরক্ষিত বা পিআরএস (PRS) কাউন্টার থেকেও। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই অফলাইন বা কাউন্টার টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও এই ঐচ্ছিক ট্রাভেল ইনস্যুরেন্সের সুবিধা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। রেল বোর্ডের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ থেকেই এই পরিষেবা কার্যকর করা হয়েছে।
মাত্র ৪৫ পয়সায় কত টাকার বিমা কভারেজ?
মাত্র ৪৫ পয়সার একটি ছোট অঙ্কের প্রিমিয়ামের বিনিময়ে যাত্রীরা পাবেন বিশাল অঙ্কের আর্থিক সুরক্ষা। এই প্রিমিয়ামের মধ্যেই সমস্ত কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিমার নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে যে সুযোগগুলি পাওয়া যাবে:
দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা: ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
স্থায়ী আংশিক অক্ষমতা: ৭.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ: দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
মৃতদেহ পরিবহনের খরচ: ১০,০ টাকা।
কারা পাবেন এই বিমার সুবিধা?
এই বিমা নেওয়া সমস্ত যাত্রীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে কাউন্টার থেকে টিকিট কাটা যাত্রীরাও এই সুবিধা নিতে পারবেন:
শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এই বিমার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।
কনফার্মড (Confirmed) টিকিটের পাশাপাশি আরএসি (RAC) টিকিটের যাত্রীরাও বিমা নিতে পারবেন।
আংশিক কনফার্মড বা ওয়েটিং লিস্টে থাকা যাত্রীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
একই পিএনআর (PNR)-এ একাধিক যাত্রী থাকলে এবং তাঁদের মধ্যে একজনের টিকিটও কনফার্ম হলে, নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে বাকিদের জন্যও এই বিমা নেওয়া সম্ভব।
কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার সময় কীভাবে বিমা পাবেন?
অনলাইনের মতো এবার স্টেশনের কাউন্টার থেকেও অত্যন্ত সহজে এই বিমা বেছে নেওয়া যাবে। এর জন্য কয়েকটি বিশেষ নিয়ম মনে রাখতে হবে:
১. রিজার্ভেশন কাউন্টারে টিকিট কাটার সময় টিকিট বুকিং ক্লার্ককে ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স নেওয়ার ইচ্ছার কথা স্পষ্ট করে জানাতে হবে।
২. টিকিটের ফরমের সঙ্গে নিজের সঠিক মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
৩. টিকিটের ভাড়ার পাশাপাশি বিমার প্রিমিয়াম অর্থাৎ ৪৫ পয়সা মিলিয়ে সম্পূর্ণ টাকা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পেমেন্ট করতে হবে।
৪. ক্যাশ বা নগদে এই পেমেন্ট করা সম্ভব নয়। তাই ইউপিআই (UPI), ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড বা অন্য অনুমোদিত ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে।
৫. সফলভাবে টিকিট বুকিং সম্পন্ন হওয়ার পর বিমা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ও পলিসির বিবরণ যাত্রীর মোবাইল নম্বরে এসএমএস-এর মাধ্যমে চলে আসবে।
টিকিট বাতিল করলে কি বিমার টাকা ফেরত পাওয়া যায়?
যাত্রী যদি বিমা নেওয়ার পর টিকিট বাতিল করেন, তবে নিয়মের কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে। ৪৫ পয়সার সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম ফেরত পাওয়া যাবে না; প্রিমিয়াম থেকে ৯ পয়সা কেটে রাখা হবে। এর পাশাপাশি রেলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী টিকিট বাতিলের চার্জ (Cancellation Charge) প্রযোজ্য হবে।
কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রেল?
এতদিন পর্যন্ত ডিজিটাল মাধ্যমে বা অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের সময়ই কেবল এই বিমার সুবিধা পাওয়া যেত। ফলে যাঁরা কাউন্টারে গিয়ে অফলাইনে টিকিট কাটতেন, তাঁরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন। সম্প্রতি বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে। গত ৬ অক্টোবর ২০২৬-এ দেশের সর্বোচ্চ আদালত রেলওয়ে বোর্ডকে অফলাইন টিকিটের ক্ষেত্রেও সমানভাবে এই বিমার সুবিধা চালুর নির্দেশ দেয়। আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই ২৭ অক্টোবর থেকে কাউন্টার বুকিংয়ে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এর ফলে প্রবীণ নাগরিক বা যাঁদের ডিজিটাল মাধ্যমে টিকিট কাটতে অসুবিধা হয়, সেই সমস্ত সাধারণ যাত্রীরাও এবার সামান্য খরচে দুর্ঘটনাজনিত বিমার সুরক্ষা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।