ধর্ষণের বদলা নিতেই আইটি ইঞ্জিনিয়ারকে অপহরণ! বেঙ্গালুরুতে তরুণীসহ গ্রেফতার ১১, মাত্র ৬ ঘণ্টায় রহস্যভেদ

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি হাব বেঙ্গালুরুতে গভীর রাতে দুই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে অপহরণ এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ গতিতে পদক্ষেপ করে অপহৃত দুই যুবকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এক তরুণীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের সামনে এসেছে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য—ব্যক্তিগত পুরোনো বিবাদ এবং ধর্ষণের এক গুরুতর অভিযোগের প্রতিশোধ নিতেই এই অপহরণের ছক কষা হয়েছিল।
ভোরে অপহরণ ও মুক্তিপণের ফোন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত দুই যুবকের নাম বি মহেন্দ্র (২৩) এবং তরুণ (২৩)। মহেন্দ্রের বাড়ি অন্ধ্রপ্রদেশের মদনপল্লিতে এবং তরুণ অন্ধ্রপ্রদেশের কড়পা জেলার বাসিন্দা। দুজনেই পেশায় সফটওয়্যার প্রকৌশলী। গত ২৮ অক্টোবর ভোর ২টো ৫০ মিনিট থেকে সকাল ৬টার মধ্যে বেঙ্গালুরুর মারাঠাহল্লি থানা এলাকা থেকে তাঁদের জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়।
ঘটনার পরই মহেন্দ্রের বাবা বি রমনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, অপহরণকারীদের কাছ থেকে তাঁর ছেলের মুক্তির বদলে টাকা দাবি করে ফোন এসেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে ৬ ঘণ্টায় রহস্যভেদ
অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই তদন্তে নামে মারাঠাহল্লি থানার পুলিশ। এলাকার একাধিক সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মোবাইল লোকেশন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে অপহরণকারীদের রুট ট্র্যাক করা হয়। অভিযোগ দায়েরের মাত্র ছ’ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই অপহৃত যুবককে নিরাপদে উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল ও সংলগ্ন এলাকা থেকে ১১ জনকে আটক করে। পুলিশের দাবি, কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ধৃতরা অপহরণ ও টাকা আদায়ের চক্রান্তের কথা স্বীকার করেছে।
ধর্ষণের বদলা নিতেই কি অপহরণের ছক?
তদন্তে নেমে পুলিশ একটি চমকপ্রদ তথ্য জানতে পেরেছে। সূত্রের খবর, গত ২৪ অক্টোবর মহেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁরই বন্ধু তরুণের এক পরিচিত তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই তরুণী ও তাঁর পরিচিতরা মিলে মহেন্দ্র ও তরুণের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। মূল লক্ষ্য মহেন্দ্র হলেও, তাঁর সঙ্গে তরুণকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মহেন্দ্রের বাবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মহেন্দ্র ও তরুণের বিরুদ্ধে মারাঠাহল্লি থানায় ধর্ষণের পৃথক একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তরুণীর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া দুই যুবককেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
এক তরুণীসহ ১১ জন গ্রেফতার
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছে, তারা হলো—
গালেটি রাজকুমার ওরফে রাজ (২৪)
মূল অভিযোগকারী তরুণী (২১)
মারিপতি মঞ্জুনাথ ওরফে মঞ্জু (২৩)
চিনিগেপল্লি লোকনাথ (২২)
বান্দলাপল্লি সুহেল (২২)
গঙ্গারেড্ডিগারি নরেন্দ্র রেড্ডি (২২)
শিব সুব্রহ্মণ্যম (২৪)
সেলিম পাশা (৩০)
নইম পাশা (৩১)
শাহবাজ (২৬)
গালি রমেশ (২০)
পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, অপহরণ এবং ধর্ষণ—দুটি অভিযোগেরই পৃথক পৃথকভাবে গভীর তদন্ত চালানো হচ্ছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।