শীত পড়লেই প্রিয় পোষ্যকে সোয়েটার পরাচ্ছেন? না জেনে শীতের জামা চাপালে হতে পারে মারাত্মক বিপদ!

হালকা ঠান্ডার পরশ মিলতেই ঘরে ঘরে প্রিয় পোষ্যকে সুন্দর সুন্দর সোয়েটার বা জ্যাকেট পরানোর হিড়িক পড়ে যায়। মানুষকে যেভাবে কনকনে শীত থেকে বাঁচতে গরম পোশাকে মুড়ে থাকতে হয়, অনেকেই মনে করেন পোষা কুকুরের জন্যও বুঝি সেটাই সেরা উপায়। কিন্তু পশু চিকিৎসকদের মতে, না বুঝে বা কেবল শখের বশে পোষ্যকে ভারী শীতের জামা পরালে তাদের শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
পশমের ধরণ ও প্রজাতি না জেনে পোশাক নয়
সব কুকুরের শারীরিক গঠন, সহ্যক্ষমতা ও লোমের ধরণ এক রকম হয় না। তাই তাদের গায়ে শীতের জামা চাপানোর আগে জাত ও পশমের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সুন্দর দেখানোর জন্য বা ঝোঁকের মাথায় ভুল পোশাক পরিয়ে দিলে পোষ্যের শারীরিক কষ্টের শেষ থাকে না।
কোন কুকুরের সোয়েটার লাগে না?
গোল্ডেন রিট্রিভার, ল্যাব্রাডর কিংবা হাস্কির মতো যেসব কুকুরের গায়ে স্বাভাবিকভাবেই বড় ও ঘন পশম (Double Coat) থাকে, তাদের আলাদা করে গরম পোশাকের কোনও প্রয়োজন নেই। প্রাকৃতিক নিয়মেই তাদের ঘন লোম আবহাওয়া অনুযায়ী শরীরকে ঠান্ডা ও গরমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। এই ধরণের কুকুরদের গায়ে জোর করে জ্যাকেট বা সোয়েটার চাপিয়ে দিলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম হতে পারে।
কারা পরতে পারে শীতের জামা?
যেসব কুকুরের গায়ের লোম বেশ ছোট বা যাদের শরীরে কেবল সিঙ্গল কোট (Single Coat) পশম রয়েছে, শীতের দিনে তাদের একটু বাড়তি খেয়াল রাখতে হয়। অতিরিক্ত ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচাতে এদের হালকা ধরণের আরামদায়ক শীতের পোশাক পরানো যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, জামাটি যেন অতিরিক্ত আঁটসাঁট বা টাইট না হয়।
অসুস্থ ও বয়স্ক পোষ্যের বিশেষ যত্ন
কুকুর যদি বেশ বয়স্ক হয় কিংবা তার যদি আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস বা গাঁটে ব্যথার মতো কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তবে শীতে তাদের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়। এমন অসুস্থ পোষ্যদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আরামদায়ক গরম জামা পরানো যেতে পারে। এতে তাদের শরীর উষ্ণ থাকে এবং কনকনে ঠান্ডায় ব্যথার প্রকোপ থেকে আরাম মেলে।
জোর করে পোশাক পরালে কী কী সমস্যা হয়?
যেসব কুকুরের গরম পোশাকের দরকার নেই, তাদের জোর করে জামা পরালে স্বাভাবিক হাঁটাচলা ও চলাফেরায় বাঁধা তৈরি হয়। ভারী কাপড়ের কারণে তাদের শরীরে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়, যার ফলে কুকুররা অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে ও অস্থির হয়ে পড়ে।
পোশাক ছাড়াও শীতকালে নজর দিন এই বিষয়গুলিতে
নরম বিছানা ও কম্বল: শীতের রাতে কেবল পোশাকে ভরসা না রেখে পোষ্যের ঘুমানোর জন্য একটি আরামদায়ক নরম বিছানার ব্যবস্থা করুন। বেশি ঠান্ডা পড়লে বিছানার ওপর হালকা কম্বল পেতে দেওয়া যেতে পারে।
পানের জল বদলে দেওয়া: কনকনে ঠান্ডা জল খেতে ওদের কষ্ট হয়, তাই সারা দিনের মধ্যে কয়েকবার বাটি পরিষ্কার করে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল বদলে দিন।
হাঁটানোর সময়ে বদল: শীতকালে কুকুরদের বাইরে ঘোরাতে নিয়ে যাওয়ার রুটিনে সামান্য পরিবর্তন আনুন। রাতের কনকনে ঠান্ডা এড়িয়ে দিনের বেলায় বা রোদের আলো থাকতে থাকতেই বাইরে থেকে ঘুরিয়ে আনুন। এতে শরীর ও মন দুটোই চাঙ্গা থাকবে।