“কেউ রাজনীতি করতে আসেনি, ব্যবসা করতে এসেছিল!” ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারিতে বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

“ব্যবসা করতে এসেছিল, রাজনীতি নয়!” ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির পরই বিস্ফোরক তোপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের; চাঞ্চল্য তৃণমূলে

পুজোর পাস বিক্রি এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের কোটি কোটি টাকার সরকারি টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে উঠেছে শোরগোল। এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারির পর এবার দলেরই সতীর্থ নেতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া ও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসল খোদ শাসক শিবিরেরই প্রবীণ সাংসদ! শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ দাবি, ইন্দ্রনীল সেন গত পাঁচ বছর ধরে কারও কথাই শুনতেন না এবং রাজনীতিকে একপ্রকার ‘ব্যবসা’ বানিয়ে ফেলেছিলেন।

“ঘটনাটি আমাদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক”

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন যে এই ধরনের আর্থিক দুর্নীতি ও গ্রেফতারির ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের লাখ লাখ সততার সঙ্গে কাজ করা কর্মী-সমর্থকদের কাছে ভীষণভাবে কষ্টদায়ক। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,

“অভিযোগটা সত্যিই আমাদের কাছে খুব বেদনাদায়ক। আমরা তো সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আমাদের মতো লক্ষ লক্ষ তৃণমূল কর্মী আজ ব্যথিত। মন্ত্রী, জেলা পরিষদ, পুরসভা বা পঞ্চায়েত—যাঁরাই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই তো আজ এই অভিযোগগুলি উঠছে। অথচ যাঁরা ক্ষমতাহীন ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এমন কলঙ্ক নেই।”

“গত ৫ বছর আমার কোনো কথাই শুনত না ইন্দ্রনীল!”

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সাধারণ মানুষ যে সততার টানে রাজনীতিতে আসেন, সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে কল্যাণবাবু সরাসরি নিশানা করেন ইন্দ্রনীল সেনকে। তিনি চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করাই ছিল এক শ্রেণির মানুষের লক্ষ্য।

ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট করে সাংসদ বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে ইন্দ্রনীল সেন আমার কোনও কথাই শুনত না।” এরপরই এক অপ্রত্যাশিত মন্তব্য করে তিনি যোগ করেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, কোনো রাজনৈতিক দলেরই একটানা পাঁচ থেকে দশ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।”

প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দলেরই প্রবীণ সাংসদের এমন প্রকাশ্য আক্রমণ ও বিস্ফোরক মন্তব্য আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে এক তীব্র বিতর্কের ঝড় তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *