. “সব অভিযোগ মিথ্যা!” জামিন পেতেই মুখ খুললেন ইন্দ্রনীল সেন, এদিকে সরকারি সওয়ালে বাড়ল জেলের মেয়াদ

জামিনের আর্জি খারিজ, ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন; জালিয়াতিতে সরাসরি যুক্ত থাকার দাবি ಸರ್ಕಾರದ
দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি এবং আর্থিক জালিয়াতির মামলায় ক্রমশ জোরালো হচ্ছে আইনি শিকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের জামিনের আর্জি খারিজ করে তাঁকে আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার শুনানিতে সরকারিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, এই বিরাট অঙ্কের আর্থিক জালিয়াতি ও দুর্নীতির চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অস্বীকার করেছেন স্বয়ং ইন্দ্রনীল সেন।
আদালত কক্ষে কী সওয়াল হলো?
এদিন শুনানির সময় সরকারিপক্ষের তরফে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য তুলে ধরা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, পুজোর প্রিভিউ শো এবং এন্ট্রি পাস বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে যে বিশাল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, তার নেপথ্যে মূল চালিকাশক্তি ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ও লোগো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার এই চক্র কীভাবে পরিচালিত হতো, তার বেশ কিছু নথিপত্রও আদালতের সামনে পেশ করা হয়।
অন্যদিকে, প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনজীবীরা সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে মক্কেলের জামিনের আবেদন জানান। তবে বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আপাতত তাঁর পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন।
ঠিক কী নিয়ে এই জলঘোলা?
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই পুজোর পাস কেলেঙ্কারি ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগে অস্বস্তিতে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা বিভাগ। এর আগে হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই তাঁর আইনি সুরক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়।
বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে থাকা প্রাক্তন মন্ত্রীকে জেরা করে এই দুর্নীতির শিকড় ঠিক কত দূর বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত, তা বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। আগামী ১০ নভেম্বর তাঁকে পুনরায় আদালতে পেশ করা হবে, যেদিকে এখন সকলের নজর আটকে রয়েছে।