‘কত বড় বালি চোর, জমি মাফিয়া আছে দেখতে চাই!’ নাম না করে কাকে গ্রেফতারের খোলা হুমকি? উত্তাল উত্তরবঙ্গ

ঋতব্রত-সঙ্গ ছাড়ার ইঙ্গিত দিতেই হামিদুলের বিরুদ্ধে খুলছে ফাইল? নাম না করে রায়গঞ্জের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মারাত্মক হুঙ্কার!
উত্তর দিনাজপুরের রাজনীতিতে চরম শোরগোল! ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’-এর বিদ্রোহী নেতা তথা প্রবীণ রাজনীতিক হামিদুল রহমান মূল দল ও ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গ ছাড়ার ইঙ্গিত দিতেই যেন রাতারাতি বদলে গেল প্রশাসনের গতিপ্রকৃতি। রায়গঞ্জের প্রশাসনিক সভা থেকে কোনো নির্দিষ্ট নাম না করে কার্যত গ্রেফতারির খোলা হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ইন্দ্রনীল সেনের সাম্প্রতিক গ্রেফতারির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা রাজনৈতিক মহলে এক নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় আসলে হামিদুল রহমানই!
‘চোপড়া, ইসলামপুরে মিটিং করব!’ গুন্ডা-মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ফাইল খোলার নির্দেশ
বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জেলার অপরাধীদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
“এর পরের মিটিং আমি নিজে চোপড়া এবং ইসলামপুরে গিয়ে করব। পুলিশ ও প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে— এলাকার যত গুন্ডা, মাফিয়া এবং অভিযুক্ত বিধায়কদের বিরুদ্ধে পুরোনো কেস রি-ওপেন (Re-open) করতে হবে।”
বালি চোর ও জমি মাফিয়াদের জমি উদ্ধারের নির্দেশ
এলাকার জমি দখল ও বেআইনি বালি কারবারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “যেভাবে বেআইনি জমি দখল ও লুঠ করা হয়েছে, তার প্রতিটি ইঞ্চি জমি উদ্ধার করা হবে। আমি দেখতে চাই এই জেলায় কত বড় বালি চোর, কত বড় জমি মাফিয়া আর কত বড় মস্তান আছে!”
ইন্দ্রনীল সেনের মতো গ্রেফতারির আতঙ্ক!
সম্প্রতি ইউনেস্কো ও দুর্গাপুজোর অনুদান কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। রায়গঞ্জের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা— ঠিক যেভাবে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ঠিক একইভাবে উত্তর দিনাজপুরের বিদ্রোহী নেতাদের পুরানো ‘অ্যাকশন ফাইল’ খুলে তাঁদেরও গ্রেফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।
হামিদুল রহমান সুর বদলাতেই রায়গঞ্জের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই অনমনীয় ও আক্রমণাত্মক মনোভাব জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।