. “তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই থাকব!” শুভেন্দুর সভার মুখ ঘুরিয়ে বিস্ফোরক দাবি বিধায়কের, তুঙ্গে রাজনৈতিক শোরগোল

হামিদুলের পর এবার মিনহাজ! মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট করে ‘মমতা-অভিষেকই নেতা’ দাবিতে বিস্ফোরক চাকুলিয়ার বিধায়ক

উত্তর দিনাজপুরের রাজনীতিতে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বিরাট অঘটন! তৃণমূল ভেঙে তৈরি হওয়া ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’-এর অন্দরে একের পর এক দলত্যাগের হাওয়া। হাবিবপুরের বিদ্রোহী নেতা হামিদুল রহমানের পথ অনুসরণ করে এবার দলবিরোধী সুর চড়ালেন চাকুলিয়ার বিধায়ক মিনহাজুল আরফিন (মিনহাজ)।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উত্তর দিনাজপুর সফরের বিশেষ সরকারি ও প্রশাসনিক অনুষ্ঠান বয়কট করলেন তিনি। কেবল অনুষ্ঠান বয়কটই নয়, স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন— “আমাদের নেতা একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”

“তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই থাকব!”

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলা সফরের একাধিক কর্মসূচি থাকলেও সেখানে উপস্থিত হননি চাকুলিয়ার এই প্রভাবশালী বিধায়ক। তার পরিবর্তে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে মিনহাজুল আরফিন বলেন:

“আমরা শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস করতাম, আজীবন তৃণমূলেই থাকব। আমাদের নিয়ে নানা ভুল বার্তা ছড়ানো হচ্ছিল। কিন্তু আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, আমাদের সর্বভারতীয় নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”

বিপাকে গণতান্ত্রিক তৃণমূল! তাসের ঘরের মতো ভাঙছে সংগঠন?

উল্লেখ্য, মূল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর উত্তর দিনাজপুরের একাধিক হেভিওয়েট নেতা একসঙ্গে মিলে গঠন করেছিলেন ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’। তবে সম্প্রতি জেলা সফর চলাকালীন হুট করেই মূল দলে ফেরার বার্তা দেন প্রবীণ নেতা হামিদুল রহমান।

হামিদুলের পর এবার মিনহাজুল আরফিনের এই একই ধরনের সোচ্চার অবস্থান প্রমাণ করে দিচ্ছে যে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের অন্দরে ফাটল অত্যন্ত চওড়া হয়ে উঠেছে। আগামী দিনগুলিতে ওই দলের একাধিক বিধায়ক ও স্থানীয় নেতা পুনরায় মূল তৃণমূল কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে ফিরতে পারেন বলেই তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *