তৃণমূলের অন্দরে মারাত্মক রাজনীতি! নিরাপত্তা শূন্য হতেই কাজল শেখের ভাইপোর বাড়ি থেকে উদ্ধার পিস্তল-গুলি

সকালে দেহরক্ষী প্রত্যাহার, সন্ধ্যায় গ্রাম ঘিরল কমব্যাট ফোর্স! কাজল শেখের ভাইপোর বাড়ি থেকে পিস্তল-গুলি উদ্ধার ঘিরে তোলপাড়
বিধানসভায় মমতা-পন্থী নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে বিজয়ার মিষ্টি খাওয়ার পরেই মারাত্মক চাপে বীরভূমের হাঁসন বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক ফয়জুল হক ওরফে কাজল শেখ। বৃহস্পতিবার সকালেই নবান্নের নির্দেশে তাঁর সমস্ত পুলিশি নিরাপত্তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আর ঠিক সন্ধ্যা গড়াতেই নানুরের পাপুড়ি গ্রামে কাজল শেখের বাসভবন ও এলাকা ঘিরে ফেলে নানুর থানার ওসি-র নেতৃত্বাধীন বিশাল পুলিশ ও কমব্যাট ফোর্স।
ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলায় তল্লাশি চালিয়ে বিধায়ক কাজল শেখের ভাইপো শেখ হুমায়ুন ওরফে ফিলিপ শেখের বাড়ি থেকে একটি ৭ এমএম (7mm) পিস্তল, সাত রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে পুলিশ। যদিও ফিলিপ শেখ বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
‘মিষ্টি খাওয়ার জন্যই এমনটা করা হচ্ছে!’ বিস্ফোরক কাজল
হঠাৎ করে নিরাপত্তা প্রত্যাহার এবং ভাইপোর বাড়িতে পুলিশি অভিযান নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাজল শেখ। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “বুঝতেই তো পারছেন কেন এসব হচ্ছে। মিষ্টি খাওয়ার জন্য এমন করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিধানসভায় প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে বিজয়ার মিষ্টি খেতে দেখা যায় কাজলকে। এর পরেই মূল তৃণমূল শিবিরের দিকে তাঁর ঢলে পড়ার জল্পনা তীব্র হয়, যা ভালো চোখে দেখেনি বর্তমান শাসক নেতৃত্ব। আর তারই পরিনাম হিসেবে এক ঘণ্টার মধ্যে পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয় তাঁর শেষ নিরাপত্তা রক্ষীকেও।
ওয়াই প্লাস (Y+) ক্যাটাগরি থেকে শূন্য নিরাপত্তা: রাজনীতির গতিপ্রকৃতি
বীরভূমের রাজনীতিতে একদা অনুব্রত মণ্ডলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন কাজল শেখ। গরু পাচার কাণ্ডে অনুব্রত গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেলা রাজনীতিতে কাজলের প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়।
-
পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা: জেলা পরিষদের আসনে জয়ী হয়ে সভাধিপতি হওয়ার পর তাঁকে ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) ক্যাটাগরির হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। যেখানে ১৫ জনের সশস্ত্র কনভয় তাঁর সুরক্ষায় থাকত।
-
অনাস্থা ও পদত্যাগ: পরবর্তীতে দলীয় অম্লমধুর সম্পর্কের কারণে নিরাপত্তা কমিয়ে ৪ জন করা হয়। গত ২০ আগস্ট তিনি জেলা পরিষদের পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং সব নিরাপত্তা হারান।
-
পুনরায় দলবদল ও মিষ্টি রাজনীতি: পরবর্তীতে পরিস্থিতি বদলে ফের দুজন দেহরক্ষী পেলেও, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার পর সেই দুজনকেও ফিরিয়ে নেয় নবান্ন। এমনকি একজন বিধায়ক হিসেবে ন্যূনতম নিরাপত্তা পাওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন কাজল শেখ।
“কাজল শেখই প্রথম বা শেষ নন!” কুণাল ঘোষের ইঙ্গিতপূর্ণ দাবি
রাজনীতিতে এই তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি খোলাখুলি জানান, অন্য শিবিরের অনেক নেতাই এখন মূল ‘মমতা-তৃণমূল’ শিবিরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
কুণাল ঘোষের দাবি, “আগামী দিনে কী ঘটে, তা দেখতে থাকুন। কাজল শেখই প্রথম বা শেষ ব্যক্তি নন; অন্য গোষ্ঠীর আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বিধায়ক ও নেতা মূল দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।”
কাজল শেখের ওপর হঠাৎ প্রশাসনিক ও আইনি চাপ বেড়ে যাওয়া এবং পিস্তল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।