মেধাতালিকায় নাম থেকেও মেলেনি চাকরি! অনশনে বসে মাথা মুণ্ডন করলেন শিক্ষিকা, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

মেধা তালিকায় নাম রয়েছে ঠিকই, কিন্তু মাসের পর মাস ধরে ঝুলে রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। ন্যায্য বেতনের চাকরির দাবিতে রাজপথে বসে দীর্ঘ লড়াই চালাচ্ছেন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু সরকারের তরফে আশ্বাস মিললেও বদলায়নি বাস্তব চিত্র। এবার সরকারের এই চরম উদাসীনতার প্রতিবাদে ও দ্রুত নিয়োগের দাবিতে এক অভূতপূর্ব তথা চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন আন্দোলনকারী সংগঠনের সম্পাদিকা এস. ভালারমাথি। প্রকাশ্যে নিজের মাথা মুণ্ডন করে কেরালা রাজ্য সচিবালয়ের বাইরে ‘আমরণ অনশন’ শুরু করেছেন তিনি।
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেরালায় লোয়ার প্রাইমারি প্রাথমিক স্কুলের চাকরির দাবিতে বিগত ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টানা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। ‘অল কেরালা লোয়ার প্রাইমারি স্কুল টিচার (এলপিএসটি) র্যাঙ্ক হোল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর ব্যানারে এই আন্দোলন চলছে। অভিযোগ, কেরালা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) অফিসিয়াল মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার তাঁদের নিয়োগ নিয়ে কালক্ষেপ করছে।
বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আন্দোলন, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, লাগাতার অনশন চলাকালীন তাঁদের মাথার ওপর থাকা অস্থায়ী ছাউনি পর্যন্ত টাঙাতে দেয়নি পুলিশ। যার ফলে মুষলধারে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই খোলা আকাশের নিচে অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা। বারবার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়াতেই পরিস্থিতি এতটা চরম রূপ নিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান ৪টি দাবি:
অনশনরত মেধাতালিকাভুক্ত প্রার্থীরা সরকারের সামনে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছেন—
১. প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অনুপাত ১:৩০ থেকে কমিয়ে ১:২৫ করতে হবে।
২. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সরাসরি পিএসসি (PSC)-র আওতাভুক্ত করতে হবে।
৩. বর্তমান প্রকাশ হওয়া মেধা বা র্যাঙ্ক তালিকার সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হবে।
৪. বর্তমান তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না।
আশ্বাসের ফাঁদে একাধিকবার ভেঙেছে অনশন
এর আগেও আগস্ট মাসে সরকারের আশ্বাসে অনশন প্রত্যাহার করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। সাধারণ শিক্ষামন্ত্রী এন. শামসুদ্দিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে দাবি খতিয়ে দেখতে ৪৫ দিনের সময় চেয়েছিলেন। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে ৩৭ দিনের মাথায় ১৩ দিনের অনশন কর্মসূচি তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সরকার জানায় যে, যেসব বিদ্যালয়ে ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে, সেখানে প্রধান শিক্ষকের পদ পিএসসি-কে জানানো হবে এবং তালিকার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি সহানুভূতিশীলভাবে ভাবা হবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় ফের রাস্তায় নামতে বাধ্য হন চাকরিপ্রার্থীরা।
রাজনৈতিক জলঘোলা ও রাহুল গান্ধীকে তোপ
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কেরালা ও জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি তীব্র কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস ও তাদের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে বিজেপির পক্ষ থেকে লেখা হয়, “দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমর্থনে ছুটে যান রাহুল গান্ধী। অথচ কেরালায় পিএসসি পরীক্ষায় সফল প্রার্থীরা যখন চাকরির দাবিতে মাথা মুড়িয়ে আমরণ অনশন করতে বাধ্য হন, তখন তিনি অদ্ভুতভাবে নীরব থাকেন।”
বিজেপির দাবি, ১১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ন্যায্য লড়াইয়ে শাসকদল এলডিএফ (LDF)-এর বঞ্চনা এবং ইউডিএফ (UDF)-এর চরম অবহেলার শিকার হয়েছেন তরুণ শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ন্যায়বিচারের আশায় বাধ্য হয়েই এমন মর্মান্তিক পথ বেছে নিতে হয়েছে তাঁদের।