“আমি গর্বিত ‘দিমাগি নকশাল’!” ‘গোদি মিডিয়া’ ও আইটি সেলকে ধুয়ে দিয়ে বিস্ফোরক নাসিরুদ্দিন শাহ

কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি কিংবা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেই নিমেষে জোটে ‘দেশবিরোধী’ অথবা ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর তকমা—এই প্রবণতার বিরুদ্ধে এবার তীব্র প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন প্রখ্যাত অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। এক সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তায় ক্ষমতাসীন শিবিরের দিকেই সেই তকমা ফিরিয়ে দিয়ে তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও বাকস্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে অত্যন্ত দৃঢ় গলায় তিনি নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ হিসেবেও ঘোষণা করেছেন।
“আসল টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং তো আপনারাই!” — ভিডিওতে বিস্ফোরক অভিনেতা
ভিডিও বার্তার শুরুতেই যাঁরা নিজেদের কেন্দ্র সরকারের ‘স্বঘোষিত রক্ষক’ বলে দাবি করেন, তাঁদের সরাসরি নিশানা করেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা।
সরকারের স্বঘোষিত রক্ষকদের কটাক্ষ করে নাসিরুদ্দিন বলেন:
“এর বাইরে আমার জানা নেই, চৌকিদাররা আমার মতো মানুষদের আর কী কী তকমা দিয়েছেন—দেশবিরোধী, টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং, আর না জানি কত কী! গর্বের সঙ্গে বলছি, আমি একজন ‘দিমাগি নকশাল’।”
অভিযোগের অভিমুখ ঘুরিয়ে তিনি বলেন, আসল ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ হচ্ছে তারা, যারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দেশের তরুণ প্রজন্মের মনোবল ভেঙে দিতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করতে এবং গণতন্ত্রকে বিপন্ন করতে আপনারা আর কত দূর যাবেন?”
JNU, SRFTI ও জামিয়ার পাশে নাসিরুদ্দিন
দেশের অগ্রণী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্র আন্দোলনের ওপর আঘাতের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU), সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI) এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার নাম তুলে ধরে তিনি সতর্ক বার্তা দেন।
তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “প্রথমে জেএনইউ, তারপর এসআরএফটিআই, আর এখন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া—পড়ুয়ারা অন্যায় অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। ইতিহাস কিন্তু এই সব ঘটনা মনে রাখবে।”
বিপ্লবী কবি বিসমিল আজিমাবাদির বিখ্যাত পঙ্ক্তি—’সরফরোশি কি তমন্না অব হামারে দিল মে হ্যায়’ আবৃত্তি করে নিজের সুর আরও চড়ান অভিনেতা।
‘গোদি মিডিয়া’ ও বিজেপি আইটি সেলকে তীব্র আক্রমণ
শুধু সরকার নয়, সরকারের সমালোচনা রুখতে সোচ্চার থাকা সংবাদমাধ্যমের একাংশ এবং বিজেপির আইটি সেলকেও রেয়াত করেননি নাসিরুদ্দিন Shah।
-
সংবাদমাধ্যমের একাংশকে কটাক্ষ: ‘গোদি মিডিয়া’র কিছু অংশকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বারবার অর্থহীন কথা প্রচার করে মূল বিষয় থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে।
-
আইটি সেলকে নিশানা: শাসকদলের আইটি সেলে কর্মরত কর্মীদের ‘অজ্ঞ ও অযোগ্য’ বলে তোপ দাগেন তিনি।
বার্তার শেষে সরকারের প্রতি খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে নাসিরুদ্দিন বলেন:
View this post on Instagram
“এগিয়ে আসুন, আমাদের বিরুদ্ধে আপনাদের কাছে যা কিছু অস্ত্র আছে, তার সব প্রয়োগ করুন। তবে মনে রাখবেন—দেশের যুবসমাজের মনোবল ভাঙা যাবে না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা যাবে না এবং ভারতীয় গণতন্ত্রকে কোনোভাবেই বিপন্ন করা যাবে না।”
ধারাবাহিক প্রতিবাদে শিক্ষাঙ্গনের পাশে
উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময় আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের পাশে বারবার দাঁড়াতে দেখা গেছে নাসিরুদ্দিন শাহকে। সাম্প্রতিককালে ক্যাম্পাসে হিংসার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলনে নামা এসআরএফটিআই (SRFTI) শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানান তিনি। এর পাশাপাশি, নিট (NEET) পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিবাদ দমনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপেরও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় ২০০৬ সালের পর থেকে থমকে থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের যে দীর্ঘ আন্দোলন চলছে, তার প্রতিও তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।