. “বিনামূল্যে হজ করাব…” জলজ্যান্ত মানুষকে চরম বিপদে ফেলল পাচারকারীরা! সৌদি জেলে বন্দি ভারতীয়দের বাঁচাতে কেন্দ্রকে আর্জি

পবিত্র হজ পালন এবং বিদেশে গিয়ে লাখ টাকার চাকরির স্বপ্ন যে এমন এক বিভীষিকাময় পরিণতি ডেকে আনবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি তাঁরা। আন্তর্জাতিক ড্রাগ পাচারকারী চক্রের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে এখন সৌদি আরবে চরম মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোট ৮ জন ভারতীয় নাগরিক। চরম দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের স্বজনরা।
সৌদির জেড্ডা বিমানবন্দরে গ্রেফতার হওয়া এই ৮ ভারতীয়ের মধ্যে ৬ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁরা হলেন— কামাল, হাফিজুল শেখ, আব্রাহাম শেখ, সাওয়াদিন শেখ, নাসিমুদ্দিন এবং জিজুল গাজী (সহ আরও একজন)। পাশাপাশি রয়েছেন কেরলমের ত্রিশূরের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সি উমর শরিফ। গত দু’মাস ধরে তাঁরা সকলেই জেড্ডার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
মিষ্টির প্যাকেটে скры করা ছিল মারাত্মক ‘লিরিকা’
উমর শরিফের পরিবার সূত্রের খবর, প্যালেস্তাইন ও সুদানের দুস্থ শিশুদের জন্য উপহার পাঠানোর অজুহাতে তাঁদের হাতে মিষ্টির প্যাকেট তুলে দিয়েছিল পাচারকারীরা। কিন্তু সরল বিশ্বাসে বহন করা সেই মিষ্টির প্যাকেটের ভেতরে যে অতি বিপজ্জনক নিষিদ্ধ ড্রাগস ‘লিরিকা’ (pregabalin) রাখা ছিল, তা টের পাননি ওই ভারতীয়রা।
জেড্ডা বিমানবন্দরে অবতরণের পরেই তাঁদের মালপত্র তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেন সৌদি কাস্টমস কর্মকর্তারা। কেবল উমর শরিফের ব্যাগ থেকেই উদ্ধার হয় প্রায় ১৪ কেজি মাদক! সৌদি আরবের কড়া আইন অনুযায়ী মাদক পাচারের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং বিপুল অংকের জরিমানার বিধান রয়েছে। ফলে এই খবর পৌঁছাতেই পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে কান্নার রোল।
বন্ধুর পাতানো বিষাক্ত ফাঁদ
উমর শরিফের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তাঁর স্বামীর বন্ধু আশিক থাঙ্গাল এবং মালাপ্পুরমের বাসিন্দা আলি এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের মূল হোতা। উমরকে মাসে ১ লাখ টাকার বেতনে জেড্ডায় রাজমিস্ত্রির সুপারভাইজার হিসেবে কাজ দেওয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে হজ করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
শুরুতে উমরকে কোয়েম্বাটুরে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে জেড্ডাগামী বিমানে তুলে দেওয়া হয়। এর পরপরই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে আশিক থাঙ্গালের স্ত্রীর সঙ্গেই যোগাযোগ করা হলে মূল ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং জানা যায় যে উমর মাদক মামলায় সৌদির জেলে বন্দি।
মুক্তির আকুল আকুতি, ময়দানে বিদেশ মন্ত্রক
উমর শরিফের ঘরে ১১ ও ৪ বছরের দুটি ছোট সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। অভিযুক্ত নাটের গুরুদের শাস্তি এবং বন্দিদের মুক্ত করতে ইতোমধ্যে কেরলমের এডিজিপি, পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
সাংসদ ই টি মহম্মদ বশির বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে গত সেপ্টেম্বরেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে চিঠি পাঠান।
পরবর্তীতে জেড্ডায় নিযুক্ত ভারতীয় কনসাল জেনারেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা সর্বক্ষণ সৌদি আরবের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ওই ৮ ভারতীয়কে প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত ভারতীয় দূতাবাস।