প্যারা এশিয়ান গেমসে ৩টি সোনাজয়ীর মর্মান্তিক পরিণতি! ঘরে মিলল অলিম্পিয়ানের দেহ, তোলপাড় ক্রীড়াজগৎ

ভারতীয় ক্রীড়াজগতে নেমে এলো চরম শোকের ছায়া। তিনবারের প্যারা এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী খ্যাতনামা প্যারা-অ্যাথলিট নীরজ যাদবের (৪২) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে দিল্লির ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফ্ল্যাট থেকে অচৈতন্য উদ্ধার, পুলিশের সন্দেহ বিষক্রিয়া
পরিবারের লোকেরা অচৈতন্য অবস্থায় নীরজকে উদ্ধার করে দিল্লির জিটিবি (GTB) হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের অনুমান, তিনি কোনো বিষাক্ত পদার্থ খেয়ে চরম পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারেন। তবে এটি আত্মহত্যা, ভুলবশত বিষক্রিয়া নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সত্য়তা স্বীকার করে ভারতীয় প্যারা-অ্যাথলেটিকস দলের প্রধান কোচ এস সত্যনারায়ণ বলেন, “এমন মর্মান্তিক খবর পেয়ে আমরা স্তব্ধ। নীরজ অত্যন্ত চরম একটি পথ বেছে নিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
ডোপিংয়ের খাঁড়া ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এফ৫৫ (F55) বিভাগের এই অ্যাথলিট সম্প্রতি ডোপিংয়ের অভিযোগে নির্বাসিত (Ban) হয়েছিলেন। ডোপিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে চলতি মাসের শুরুতে আইচি-নাগোয়াতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান প্যারা গেমসে তিনি অংশ নিতে পারেননি। দেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারার মানসিক যন্ত্রণায় গত কয়েকদিন ধরে তিনি চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে খবর।
কোচ এস সত্যনারায়ণ আরও যোগ করেন, “জীবনের উত্থান-পতনকে খেলোয়াড় হিসেবে মানিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে ও নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।”
পোলিও জয় করে সোনার ইতিহাস
মাত্র সাত বছর বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে স্থায়ী পক্ষাঘাতের শিকার হন নীরজ। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর স্বপ্নকে দমাতে পারেনি।
-
প্রথমে হুইলচেয়ার টেনিস দিয়ে খেলাধুলো শুরু করলেও পরে প্যারা-অ্যাথলেটিকসে আসেন তিনি।
-
২০১৮ সালে জাকার্তা এশিয়ান গেমসে জ্যাভলিন থ্রো-তে সোনা জেতেন।
-
২০২৩ সালে হাংঝু এশিয়ান গেমসে জ্যাভলিন এবং ডিসকাস থ্রো—উভয় ইভেন্টেই সোনা জিতে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেন।
দেশের অন্যতম সফল এই প্যারা-অ্যাথলিটের এমন অকাল ও রহস্যজনক প্রয়াণে ক্রীড়ামহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।