৯ মাসের শিশুকন্যা সহ মর্মান্তিক মৃত্যু ৪ জনের! ছপরার রাস্তায় দানবীয় ট্রাকের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল অটো

বিহারের সারণ (ছপরা) জেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ মাসের একটি শিশুকন্যা ও এক কিশোরসহ চার জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। মৃতদের মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত কাল গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে সারণের গড়খা থানা এলাকার ভৈসমারা গ্রামের কাছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি অটোতে বেশ কয়েকজন যাত্রী ছপরা থেকে গড়খার দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় পিছন থেকে একটি বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত ট্রাক সজোরে অটোটিকে ধাক্কা মারে। ধাক্কাটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে অটোটি দুমড়ে-মুচড়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মুহূর্তে নেমে আসে আতঙ্ক ও কান্নার রোল
দুর্ঘটনার তীব্র শব্দে আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দুমড়ে যাওয়া অটোর ভেতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় যাত্রীদের উদ্ধার করার সময় সেখানে চরম হাহাকার ও কান্নার রোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগায়।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পারসা থানার পুরে ছপরা গ্রামের বাসিন্দা বিশাল কুমার রামের স্ত্রী অনু কুমারী (২৬), ভগবান বাজার থানার কাটরা এলাকার ভোলা প্রসাদের ১৫ বছরের ছেলে অমন কুমার এবং রতনপুরা এলাকার সুরেন্দ্র প্রসাদের ২৫ বছরের ছেলে আশিস কুমার। এছাড়া প্রাণ হারিয়েছে অনু কুমারীর ৯ মাসের শিশু কন্যা নিশুমারীও।

ডায়াল ১১২ পুলিশের তৎপরতা
ঘটনার সময় ওই পথ দিয়েই যাচ্ছিল পুলিশের ‘ডায়াল ১১২’-এর একটি টহলদারি গাড়ি। পরিস্থিতি আঁচ করে পুলিশকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগী হন। কর্তব্যরত কর্মী অঙ্কিত কুমার সিংহ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে শিশুসহ অন্যান্য আহত যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় শ্রীনিবাস হাসপাতালে পৌঁছে দেন। এই সাহসী পদক্ষেপের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।

আহতদের চিকিৎসা ও তদন্ত শুরু
দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের শোকের মাতমে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় আহত বিশাল কুমার রাম ও এক শিশুসহ অন্যদের স্থানীয় শ্রীনিবাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসকদের মতে, আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁদের উপর চিকিৎসকদের একটি দল বিশেষ নজরদারি চালিয়ে রাখছে।

দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তার কোনো খোঁজ মেলেনি। পুলিশ ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *