চাকরির টোপ দিয়ে মহিলাদের বাড়ি ডেকে পাঠানো হতো! প্রাক্তন ডেপুটি মেয়রের বাড়ি ঘেরাও করে ধুন্ধুমার দুর্গাপুরে

চাকরির টোপ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন, এমনকি কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মহিলাদের বাড়িতে ডেকে পাঠানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দুর্গাপুরের গোপালমাঠ এলাকা। দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ সদস্য তথা ডেপুটি মেয়র অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে জহরের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ তুলে তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি এবং স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই বিক্ষোভে সামিল হন এলাকার কয়েকশো মহিলা। তাঁদের বিক্ষোভে ও স্লোগানে কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা এলাকা। তীব্র উত্তেজনা ছড়ানোয় পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিশেষ করে কাজের খোঁজে থাকা মহিলাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে ডেকে পাঠানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে ওই প্রাক্তন মেয়র পারিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, চাকরির আশায় কয়েক হাজার থেকে শুরু করে লক্ষ লক্ষ টাকা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কাউকেই কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি। টাকা দিয়ে আজ সর্বস্বান্ত হওয়ার মুখে বহু সাধারণ পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই ক্ষোভ ও বঞ্চনাই মঙ্গলবার চূড়ান্ত রূপ নেয়।

গতকাল সন্ধ্যায় অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে মহিলারা জানান, চাকরির আশঙ্কায় দিনের পর দিন ঘুরেও কোনো সুরাহা মেলেনি। উল্টে টাকা ফেরত চাইতে গেলে মেলেনি কোনো সমাধান। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন এবং অভিযুক্তের অবিলম্বে গ্রেপ্তারি দাবি করেছেন।

বিক্ষোভকারীদের সাফ হুঁশিয়ারি, এই অভিযোগের যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। এপ্রসঙ্গে বিক্ষোভকারী বাণী বাগদী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চাকরি দেওয়ার নাম করে অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় টাকা নিতেন। এলাকার বেকার মহিলারা কাজের খোঁজে গেলে তাঁদের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হতো। লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েও কাউকেই চাকরি দেওয়া হয়নি। বহু মানুষ এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আমরা চাই, অবিলম্বে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হোক। না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হব।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *