‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এখনও বাকি!’ নন্দীগ্রাম-রেজিনগর জয়ের পর বিস্ফোরক শুভেন্দু

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী দুই বিজেপি বিধায়ক হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভার সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন। বুধবার বেলা ১১টায় বিধানসভায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার রথীন্দ্র বসু। এদিনের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দুই নবনির্বাচিত বিধায়ককে উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানান এবং নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁদের শুভেচ্ছা জানান।
‘এ তো সবে সকালের চা-বিস্কুট!’
শপথগ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাসক শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন দেবাংশু পণ্ডা। এছাড়া শাখারভ সরকারের ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থারই জোরালো প্রমাণ বলে দাবি করেন তিনি। বিরোধী শিবিরকে হুঙ্কার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ তো সবে ব্রেকফাস্ট হচ্ছে। যা দেখছেন, তা সকালের চা-বিস্কুট। এখনও লাঞ্চ হয়নি। দেখতে থাকুন।”
পাশাপাশি, বিজেপিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘সাম্প্রদায়িক দল’ হিসেবে দেগে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হ্যাঁ, আমরা হিন্দু। আমরা সনাতনে বিশ্বাস রাখি। কিন্তু সরকার চালাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য যে বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, আমরা ঠিক সেগুলিকেই গুরুত্ব দিই।”
তৃণমূলের প্রতিনিধির উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা
এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সমীকরণ ছিল বেশ নজরকাড়া। উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে এই নির্বাচনকে ‘ধাপ্পা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন, সেখানে দুই বিজেপি বিধায়কের শপথ অনুষ্ঠানে শাসক দলের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। জানা গেছে, কালিঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এদিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন প্রবীণ নেতা অশোক দেব। এছাড়া কংগ্রেসের এক বিধায়ককেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। সবমিলিয়ে, বিধানসভার অন্দরে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে নতুন জল্পনা।