বকরি বাঁধা নিয়ে সামান্য বচসা, তাতেই বুক ফেটে প্রাণ হারালেন বৃদ্ধ! আদালতের রায়ে থ শোরগোল!

ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের সামান্য কথাকাটাকাটি শেষ পর্যন্ত রূপ নিল এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে! তিন বছরের নাতনিকে ছাগলের উৎপাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে এক প্রতিবেশীর সজোরে মারা ঘুষিতে প্রাণ হারালেন এক প্রৌঢ়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর অবশেষে এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মূল অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিল আদালত। কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু জেলার ডোডাবাল্লাপুর তালুকের বিসুভানহল্লি গ্রামের এই ঘটনা এই মুহূর্তে রাজ্য জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
নাতনিকে ছাগলের ‘উত্ত্যক্ত’ করা থেকেই সূত্রের পাত
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট। বিসুভানহল্লি গ্রামের বাসিন্দা চন্দ্রশেখর সাহেবের তিন বছরের নাতনিকে প্রতিদিন উত্ত্যক্ত করত প্রতিবেশী রবি কুমারের পরিবারের একটি ছাগল। ছাগলটি প্রায়শই স্থানীয় মন্দিরের আশেপাশে ঘুরে বেড়াত এবং শিশুটিকে ভয় দেখাত। এ নিয়ে চরম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন চন্দ্রশেখরের পরিবার।
তারা একাধিকবার রবি কুমারকে অনুরোধ করেন যাতে ছাগলটিকে বেঁধে রাখা হয়। কিন্তু রবি কুমারের পরিবার সাফ জানিয়ে দেয়, ছাগলটি মানতের নামে মন্দিরের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে, তাই এটিকে কোনোভাবেই বেঁধে রাখা যাবে না। এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল।
এক ঘুষিতেই মর্মান্তিক পরিণতি!
২০২১ সালের ২৩ আগস্ট ছাগলটি আবারও চন্দ্রশেখরের নাতনিকে বিরক্ত করলে পরিবারের সদস্যরা সেটিকে আটকানোর বা বাঁধার চেষ্টা করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রবি কুমার ও তার পরিবার। শুরু হয় চরম বাকবিতণ্ডা, যা মুহূর্তের মধ্যে মারামারির রূপ নেয়।
অভিযোগ, ঝগড়ার একপর্যায়ে রবি কুমার সজোরে চন্দ্রশেখরের বুকের বাম পাশে একটি প্রচণ্ড ঘুষি মারে। ঘুষির আঘাতে তৎক্ষণাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন চন্দ্রশেখর। পরিবারের লোকেরা হন্তদন্ত হয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ মামলা রুজু করে মূল অভিযুক্ত রবি কুমারকে গ্রেপ্তার করে।
শরীরে ছিল না কোনো বাহ্যিক আঘাত, তবে ধরা পড়ল কীভাবে?
এই মামলার সবচেয়ে জটিল দিকটি ছিল যে, চন্দ্রশেখরের শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের দাগ ছিল না। একেই হাতিয়ার করে অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে এই মৃত্যুর পেছনে কোনো হাতাহাতি নেই। কিন্তু ফরেনসিক, ময়নাতদন্ত ও হিস্টোপ্যাথলজি রিপোর্টে সত্য উন্মোচিত হয়।
মেডিকেল রিপোর্টে চিকিৎসকরা প্রমাণসহ জানান, বুকের বাম দিকে সজোরে লাগা প্রচণ্ড আঘাতের ফলেই হৃদযন্ত্রের ধমনীতে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায় এবং হৃদরোগে আক্রান্ত (হার্ট অ্যাটাক) হয়ে চন্দ্রশেখরের মৃত্যু হয়। আদালতে চিকিৎসকদের এই বৈজ্ঞানিক ও ডাক্তারি তথ্যই মূল প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়।
আদালতের যাবজ্জীবন সাজা
ডোডাবাল্লাপুরের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত মেডিকেল রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে রবি কুমারকে দোষী সাব্যস্ত করে। বিচারক তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি এই সংঘর্ষে জড়িত অন্য সহ-অভিযুক্তদেরও সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে আদালত। সামান্য একটি ছাগলকে কেন্দ্র করে একটি তরতাজা প্রাণ চলে যাওয়া এবং অন্যজনের সারা জীবন জেলে কাটার এই পরিণতি পুরো এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।