৩ মাসে পর পর ৩ বার! বাংলায় ফের পুলিশের সার্ভিস রিভলভার কেড়ে এনকাউন্টার, গাইঘাটায় রক্তক্ষয়ী নাটক!

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটায় এক চাঞ্চল্যকর পুলিশ এনকাউন্টারে প্রাণ হারাল ১৭ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত ২৩ বছরের যুবক প্রলয় দাস। সোমবার গভীর রাতে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ বা ‘ক্রাইম সিন রি-ক্রিয়েশন’-এ গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু সেখানেই ঘটে যায় এক নাটকীয় ঘটনা। পুলিশকে চমকে দিয়ে তাদেরই সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নিয়ে পরপর গুলি চালাতে শুরু করে অভিযুক্ত প্রলয়। জবাবে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই সে গুরুতর আহত হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশের ওপর হামলা ও খালের জলে প্রাণরক্ষা
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার রাতে অভিযুক্ত প্রলয়কে সঙ্গে নিয়ে গাইঘাটার ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তদন্তকারী দল। কীভাবে সে নাবালিকাকে নির্যাতন ও হত্যা করেছিল, তা বোঝার জন্যই এই অভিযান চালানো হচ্ছিল। কিন্তু আচমকাই প্রলয় এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেয় এবং পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।

হঠাৎ এই হামলায় প্রাণ বাঁচাতে পাশেই থাকা একটি খালের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষা করেন পুলিশকর্মীরা। এরপরই তারা প্রলয়কে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। এই ঘটনায় ভাগ্যক্রমে কোনো পুলিশকর্মী আহত হননি।

গুলবিদ্ধ অবস্থায় প্রলয়কে তড়িঘড়ি চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহটি ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে একজন অভিযুক্ত কীভাবে সশস্ত্র পুলিশের হেফাজত থেকে রিভলভার ছিনিয়ে নিল, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

৩ মাসের মধ্যে বাংলায় তৃতীয় এনকাউন্টার
উল্লেখ্য, গত তিন মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এটি তৃতীয় ঘটনা, যেখানে কোনো ধর্ষণ ও খুনের আসামিকে ক্রাইম সিন রি-ক্রিয়েশনের জন্য নিয়ে যাওয়ার পর সে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে গুলি চালায় এবং পুলিশের পাল্টা গুলিতে প্রাণ হারায়। এর আগে জুলাই মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরেও প্রায় হুবহু একই ধাঁচের একটি ঘটনা সামনে এসেছিল।

শনিবারের নিখোঁজ ও রোববারের নির্মম পরিণতি
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার সন্ধ্যায়। নির্যাতিতা নাবালিকার মা জানান, তিনি তাঁর ১৭ বছরের মেয়েকে নিয়ে একটি স্থানীয় মেলা বা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরার সময় আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায় মেয়েটি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রবিবার সকালে গাইঘাটা থানা এলাকার একটি নির্জন বাড়ির পেছন থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ।

পরিবারের অভিযোগ ছিল, মেয়েটিকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করার পর হত্যা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে প্রলয় দাসকে, যে সম্পর্কে নির্যাতিতা নাবালিকার দূর সম্পর্কের আত্মীয় হতো।

উত্তপ্ত এলাকা, হাসপাতালে স্বজনদের ক্ষোভ
এনকাউন্টারে প্রলয়ের মৃত্যুর খবর পেতেই চাঁদপাড়া হাসপাতালে পৌঁছান তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে তাঁরা এই ঘটনা নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দেন। এনকাউন্টারের পর যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য গোটা গাইঘাটা ও সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। ডেইলিয়েন্ট পাঠকদের জন্য এই ঘটনার সমস্ত প্রতি মুহূর্তের আপডেট নজর রাখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *