রণজীতে ছক্কা হাঁকিয়ে সরাসরি কোহলি-গম্ভীরের ক্লাবে আয়ুষ বাদোনি! পরপর দুই ডবল সেঞ্চুরিতে তোলপাড় ভারতীয় ক্রিকেট!

রঞ্জি ট্রফিতে যেখানে ব্যাটারদের একটি শতরান করার জন্যই রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়, সেখানে দিল্লি দলের অধিনায়ক আয়ুষ বাদোনি একের পর এক ডবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রেকর্ড বই ওলটপালট করে দিচ্ছেন। গুজরাতের পর এবার ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধেও দুর্দান্ত এক দ্বিশতরান উপহার দিলেন এই মারকাটারি ব্যাটার। রাঁচির জেএসসিএ স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালীন বাদোনি মাত্র ২২৮ বলে অপরাজিত ২১০ রানের এক রূপকথার ইনিংস খেলেন। তাঁর এই অনবদ্য ডবল সেঞ্চুরির সুবাদেই প্রথম ইনিংসে ৫১৫ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোরে পৌঁছে যায় দিল্লি। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৯টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে এই বিধ্বংসী ইনিংসটি খেলেন তিনি।
বিরাট কোহলি ও গৌতম গম্ভীরের সমকক্ষ আয়ুষ
চলতি রঞ্জি মরশুমে আয়ুষ বাদোনির এই চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স তাঁকে সরাসরি ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার বিরাট কোহলি এবং গৌতম গম্ভীরের এলিট ক্লাবে এনে দাঁড় করিয়েছে। এর আগে দিল্লির হয়ে কেবল এই দুই কিংবদন্তি ব্যাটারই টানা দুই ইনিংসে দ্বিশতরান হাঁকানোর নজির গড়েছিলেন। সেই তালিকায় এবার স্বর্ণাক্ষরে নাম লিখিয়ে নিলেন বাদোনি নিজেও। চলতি রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচে ২৩ ও ৮৫ রান করার পর, ঠিক পরের ম্যাচেই ২১৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। আর এবার ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে ফের অপরাজিত ২১০ রান করে নিজের ফর্মের দ্যুতি ছড়ালেন এই তরুণ তুর্কি।
ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান
আইপিএল বা সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে আয়ুষ বাদোনিকে মূলত আগ্রাসী ব্যাটার হিসেবেই চেনে ক্রিকেট দুনিয়া। তবে লাল বলের বা রেড বল ক্রিকেটে যে তিনি অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন, তা তাঁর পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দেয়। কেরিয়ারের মাত্র ২৭টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলে ৬৩.৮৪ গড়ে ইতিমধ্যেই ২৪২৬ রান সংগ্রহ করে ফেলেছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে ৪টি চোখ ধাঁধানো দ্বিশতরান এবং ১১টি অর্ধশতরানের নজরকাড়া ইনিংস।
টিম ইন্ডিয়ার নির্বাচকদের নজরে কবে পড়বেন বাদোনি?
ধারাবাহিকভাবে এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স সত্ত্বেও ঘরোয়া ক্রিকেটের এই পোস্টার বয়কে এখনও পর্যন্ত ‘ইন্ডিয়া এ’ (India A) দলেও সুযোগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে নিউজিল্যান্ড এ দলের বিরুদ্ধে চলমান সিরিজেও তাঁর জায়গা মেলেনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলা এই প্রতিভাবান ক্রিকেটারের ওপর কবে নির্বাচক ও টিম ইন্ডিয়া ম্যানেজমেন্টের নজর পড়ে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।