পুরো মাসের সব কামাই শেষ মাত্র ১ ফ্লাইটে! পরিবারের টানে বিহারের এক শ্রমিকের যা কাণ্ড, স্যালুট জানাচ্ছে নেটপাড়া!

জীবন মানে কি শুধু সকাল-সন্ধ্যা রক্ত জল করা খাটুনি আর মাস শেষে নানা বিল মেটানো? নাকি জীবনের আসল আনন্দ লুকিয়ে থাকে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্তের মধ্যে? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালে ভেসে বেড়ানো বিহারের এক সাধারণ শ্রমিকের গল্প ফের নতুন করে শিখিয়ে দিল জীবনের সেই পরম সত্যি কথাটি। পরিবারের সঙ্গে বিহারের মহাপর্ব ‘ছট পুজো’ উদযাপন করতে এই যুবক যা করলেন, তা শুনে একদিকে যেমন সবাই হতবাক, অন্যদিকে তাঁর সরলতা জয় করে নিয়েছে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়। জীবনের প্রথম বিমানযাত্রার স্বপ্ন পূরণ এবং বাড়ির টানে এই যুবক নিজের পুরো এক মাসের হাড়ভাঙা উপার্জনের টাকা এক লহমায় খরচ করে ফেলেছেন!

চেন্নাই থেকে সোজা পাটনার উড়ান
বিহারের মানুষের কাছে ‘ছট পুজো’ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি দূরে থাকা মানুষদের কাছে ভিটেমাটিতে ফেরার এক তীব্র আবেগ। চেন্নাইয়ে দিনমজুরের কাজ করা বিহারের নালন্দা জেলার বাসিন্দা শত্রুঘ্ন কুমারের মনও কদিন ধরেই ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল ছট পুজোয় বাড়ির লোকজনের পাশে থাকার জন্য। সাধারণত কষ্টার্জিত টাকা বাঁচানোর জন্য শ্রমিক শ্রেণির মানুষ ট্রেনের উপচে পড়া ভিড় আর ধাক্কাধাক্কির দীর্ঘ যাত্রা বেছে নেন। কিন্তু শত্রুঘ্ন হাঁটলেন একেবারে উল্টো পথে। ট্রেনের টিকিটের অনিশ্চয়তা আর ঝামেলার কথা ভুলে তিনি সোজা চেন্নাই থেকে পাটনার বিমান ধরে বসলেন!

এক মাসের সম্পূর্ণ আয় বাজি, অথচ চোখেমুখে অনাবিল আনন্দ
এই ব্যতিক্রমী বিমানযাত্রার সবথেকে বড় চর্চার বিষয় হলো এর খরচ। মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই সফরের টিকিট কাটতে গিয়ে শত্রুঘ্নকে নিজের পুরো এক মাসের রক্ত জল করা উপার্জন ঢেলে দিতে হয়েছে। একজন দিনমজুরের কাছে পুরো মাসের রোজগারের গুরুত্ব কতটা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু টাকার অঙ্ক গোনার চেয়ে তিনি বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছেন নিজের বহুদিনের সুপ্ত স্বপ্ন পূরণ এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো অমূল্য সময়কে। মেঘের ওপর ভেসে চলার রোমাঞ্চ আর স্বজনদের কাছে পাওয়ার ব্যাকুলতার সামনে এই বিপুল খরচকে তাঁর কাছে বিন্দুমাত্র ভারী বলে মনে হয়নি।

গ্রামে পা রাখতেই রাজকীয় অভ্যর্থনা
নিজের গ্রামে পা রাখতেই এই শ্রমিকের সফর আরও বেশি রোমাঞ্চকর ও আবেগঘন হয়ে ওঠে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, গ্রামের মানুষ যখন জানতে পারেন যে তাঁদেরই ঘরের ছেলে তথা খেটে খাওয়া ভাই বিমানে চড়ে বাড়ি ফিরেছেন, তখন তাঁকে একপ্রকার রাজার মতো উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। শত্রুঘ্নকে দেখতে এবং তাঁর এই অভিনব বিমানযাত্রার অভিজ্ঞতার কথা শুনতে এখন দূরদূরান্ত থেকে পৌঁছাচ্ছেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবাররা।

ইন্টারনেট দুনিয়ায় ঝড়, শুরু তীব্র তরজা
শত্রুঘ্নর এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে দুটি ভিন্ন মত দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, মাত্র একটা ফ্লাইটের পেছনে এক মাসের পুরো আয় উড়ানো একেবারেই অবিবেচকের মতো কাজ। তবে সিংহভাগ মানুষই শত্রুঘ্নর এই সিদ্ধান্তকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, টাকা তো সারাজীবনই রোজগার করা যাবে, কিন্তু পরিবারের মুখের এই হাসি আর জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো যে অর্থ দিয়ে কেনা যায় না! প্রান্তিক শ্রেণির একজন মানুষের নিজের স্বপ্নকে এভাবে সত্যি করে নেওয়ার সাহসই আজ নেটদুনিয়ায় কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *