মেগা আইপিও-র বাজারে বিরাট ধামাকা! ২৮ অক্টোবর লিস্টিংয়ের দিনই কি জিও-র শেয়ার কেনা উচিত? বিশেষজ্ঞদের বড় সতর্কবার্তা!

শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেড’-এর মেগা ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিও (IPO)। ইতিপূর্বে শেয়ারের অ্যালটমেন্ট পর্ব সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। ফলে যেসব বিনিয়োগকারী আবেদন করেও শেয়ার পাননি, তাঁরা এখন চোখ রাখছেন স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির অভিষেকের বা লিস্টিংয়ের দিকে। আগামী ২৮ অক্টোবর জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) এবং বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (BSE) আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হতে চলেছে জিও-র শেয়ার। এই আবহে বিনিয়োগকারীদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— লিস্টিংয়ের দিনই কি শেয়ার কিনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, নাকি কোনো কারেকশন বা দর পতনের জন্য অপেক্ষা করা উচিত?
সাবস্ক্রিপশনে রেকর্ড সাফল্য
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত খোলা এই ৩০,১৮৮ কোটি টাকার আইপিও-টি মোট ২২.১৯ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কই প্রমাণ করে যে ছোট-বড় সমস্ত শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই ইস্যুটিকে ঘিরে চাহিদা কতটা তুঙ্গে ছিল। কোম্পানি তাদের প্রতিটি শেয়ারের ফাইনাল ইস্যু প্রাইস নির্ধারণ করেছে ১,১১৯ টাকা। এই আইপিও-র মাধ্যমে ২৭ কোটি নতুন শেয়ার ইস্যু করা হয়েছিল। যাঁরা প্রাথমিক পর্বে শেয়ার পাননি, লিস্টিংয়ের পর সেকেন্ডারি মার্কেটের মাধ্যমে তাঁদের জন্য এই টেলিকম ও ডিজিটাল জায়ান্টে অংশীদারিত্ব কেনার পথ খুলে যাচ্ছে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ার কেনার আগে স্টকের গতিবিধির ওপর সতর্ক নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কেমন হতে পারে লিস্টিং প্রিমিয়াম?
বিশিষ্ট ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিস্ট অম্বরীশ বালিগার মতে, জিও আইপিও-তে প্রাতিষ্ঠানিক বা ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টরদের চাহিদা প্রত্যাশার থেকেও অনেক বেশি ছিল। এখন দেখার বিষয়, লিস্টিংয়ের পর সেকেন্ডারি মার্কেটেও সেই চাহিদা বজায় থাকে কি না। যদি সেই ট্রেন্ড বজায় থাকে, তবে শেয়ারের দাম আরও ওপরের দিকে যেতে পারে।
বর্তমানে গ্রেই মার্কেট প্রিমিয়াম (GMP) ২০ থেকে ২২ শতাংশের কাছাকাছি সংকেত দিচ্ছে। কিন্তু আইপিও-র বিশাল আকারের কথা মাথায় রেখে অম্বরীশ বালিগা ৮ থেকে ১০ শতাংশের মতো সাধারণ লিস্টিং প্রিমিয়ামের আশা করছেন।
তিনি নতুন বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়েছেন যে, লিস্টিংয়ের দিন স্টক যদি খুব চড়া দামে খোলে, তবে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। প্রাথমিক জল্পনার পর যদি শেয়ারের দামে কিছুটা কারেকশন বা পতন দেখা যায়, তবে ইস্যু প্রাইসের (১,১১৯ টাকা) কাছাকাছি দামে পৌঁছালে ধীরে ধীরে শেয়ার কেনার কথা ভাবা যেতে পারে। পাশাপাশি, এই মেগা আইপিও-র সাইজ অনেক বড় হওয়ায় লিস্টিংয়ের দিন প্রফিট বুকিং বা মুনাফা বিক্রির চাপও দেখা যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
শেয়ার কেনার সঠিক সময় কোনটা?
একই সুর শোনা গেছে ‘অবিনাশ মেন্টর রিসার্চ সার্ভিসেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা অবিনাশ গোরক্ষকরের গলাতেও। তাঁর বক্তব্য, যেসব বিনিয়োগকারী আইপিও-তে শেয়ার পাননি, তাঁদের প্রথম দু-একদিন বাজারে হুড়মুড় করে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত নয়। বরং শেয়ারটির দাম কিছুটা স্থির বা স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়।
তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লিস্টিংয়ের পর মুহূর্তে স্টকের দাম হু হু করে বাড়লেও, খুব দ্রুত সেখানে প্রফিট বুকিং শুরু হতে পারে। ফলে দাম কিছুটা নামার সুযোগ থাকবে। তাই নতুন করে শেয়ার কেনার আগে বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অভিজ্ঞ আর্থিক উপদেষ্টারা।