দিনে ৪১ কেজি দুধ! হরিয়ানার এই ‘ম্যাজিক’ মহিষ ভাঙল সব রেকর্ড, দাম ৪-৫টি লাক্সারি কারকেও টেক্কা দেবে!

দুগ্ধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে হরিয়ানার বিখ্যাত ‘মুররা’ (Murrah) জাতের মহিষের যে কোনো বিকল্প নেই, তা ফের প্রমাণ হলো। একের পর এক রেকর্ড গড়ে এই জাতের মহিষেরা এমনিতেই দেশজুড়ে জনপ্রিয়। তবে এবার হরিয়ানার হাঁসি অঞ্চলের মির্চপুর গ্রামের পশুপালক নবদ্বীপের মহিষ ‘দুর্গা’ যা করে দেখাল, তা শুনলে চোখ কপালে উঠবে! একদিনে টানা ৪১ কেজি দুধ দিয়ে একটি অল-টাইম নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছে এই মহিষ।

এর আগে সিংহওয়া খাস এলাকার কৃষক ঈশ্বর সিংহওয়ার মহিষ ‘রাধা’ ৩৫ কেজি ৬৬৯ গ্রাম দুধ দিয়ে রেকর্ড গড়েছিল। সেই রেকর্ডকেও অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে ‘দুর্গা’। মহিষের এই অভূতপূর্ব দুগ্ধ উৎপাদনের খবরে হরিয়ানা সরকারের পশুপালন ও ডেইরি উন্নয়ন বিভাগেও এখন উৎসবের আমেজ।

যেভাবে তৈরি হলো এই বিশ্বমানের রেকর্ড
হরিয়ানা সরকারের দেশি গরু সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং ‘মুররা উন্নয়ন প্রকল্প’-এর অধীনে অনুষ্ঠিত দুধ রেকর্ডিং প্রক্রিয়ার সময় এই নতুন রেকর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়। সরকারি কর্মকর্তা ও ডেইরি বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ নজরদারিতেই এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

মালিক নবদ্বীপ জানিয়েছেন, দুর্গা তাঁর বাড়িতে লালিত-পালিত হওয়া তৃতীয় প্রজন্মের মহিষ। তাঁর মেয়ে জ্যোতি ভালোবেসে এর নাম রেখেছিল ‘দুর্গা’। এই ঐতিহাসিক রেকর্ড বানানোর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও বৈজ্ঞানিক পরিচর্যা। দুর্গার জন্য বিশেষ পুষ্টিকর ও সুষম খাবারের বন্দোবস্ত করা হতো। নিয়মিত ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি প্রতিদিন তাকে দেওয়া হতো খোল, তিল/তুলা বীজ (বিনোলা), ছোলা, মেথি, সয়াবিন, গমের দলিয়া, ছোলার চূর্ণি এবং সবুজ ঘাস। এসবের পাশাপাশি প্রতিদিন তাকে প্রায় ১৫ কেজি বিশেষ দানাশস্য খাওয়ানো হতো।

শুধু খাওয়াদাওয়াই নয়, দুর্গার আরামের জন্য তার থাকার জায়গায় পাতা রয়েছে বিশেষ আরামদায়ক তোশক (Special Mattresses) এবং প্রতিদিন শর্ষের তেল দিয়ে তার শরীর ম্যাসাজ বা মালিশ করা হতো।

দাম উঠল ৪০ লাখ টাকা, তবুও বিক্রি করতে নারাজ মালিক!
দুর্গার এমন নজরকাড়া ক্ষমতার কথা ছড়িয়ে পড়তেই তার চাহিদা আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। নবদ্বীপ জানিয়েছেন, সম্প্রতি রোহতকের এক বড় ব্যবসায়ী দুর্গাকে কেনার জন্য ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হেঁকেছিলেন! কিন্তু একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বা কয়েকটি লাক্সারি গাড়ির সমান দাম পেয়েও দুর্গাকে বিক্রি করতে সাফ বারণ করে দিয়েছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, দুর্গার পুঁচকে পুরুষ বাছুরের (কাটড়া) দামও উঠে গেছে ৭ লাখ টাকার বেশি! তবে তাকেও বিক্রি করতে অস্বীকার করেছেন নবদ্বীপ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, দুর্গা তাঁদের পরিবারের এক সদস্যের মতো এবং দুর্গার পরবর্তী প্রজন্মকেও তাঁরা নিজেদের বাড়িতেই লালন-পালন করে বড় করে তুলবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *