“NMO-এর নাম করে মোটা টাকা দাবি!”-বর্ধমান মেডিক্যালে তোলার অভিযোগে শোরগোল, আসল সত্যিটা কী?

রাজ্যের অন্যতম প্রধান চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ফের এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কলেজের আসন্ন ফেস্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য প্রথম বর্ষের এমবিবিএস পড়ুয়াদের কাছ থেকে জোর করে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিক্ষক ও ছাত্র মহলে। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) চিকিৎসক সংগঠন ‘ন্যাশনাল মেডিকস অর্গানাইজেশন’ বা NMO-এর নাম।

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে?

সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেড্ডিটে (Reddit) নাম প্রকাশ না করে জনৈক পড়ুয়া একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে দাবি করা হয়, NMO-এর নাম ব্যবহার করে বর্ধমান মেডিক্যালের প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের কাছে কয়েক হাজার টাকা করে চাঁদা বা তোলা দাবি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই টাকা না দিলে ভবিষ্যতে হেনস্থার শিকার হতে পারে বলেও জুনিয়রদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

সমস্ত অভিযোগ খারিজ করল NMO নেতৃত্ব

যদিও এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছে ন্যাশনাল মেডিকস অর্গানাইজেশন (NMO)। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ডা. রুদ্রনীল নন্দী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ডা. রুদ্রনীল নন্দী বলেন, “এই ধরনের ঘটনা আদৌ ঘটেছে কি না, তা নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা সাংগঠনিকভাবে আমাদের বদনাম করার জন্য কেউ সুপরিকল্পিতভাবে এই কাজটি করেছে। কারণ, যিনি পোস্টটি করেছেন বা যার কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে, তাঁর কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় বা তথ্য সেখানে নেই।” তিনি আরও জানান, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে তাঁদের সংগঠনের যারা সদস্য, তাঁদের কাছেও এ বিষয়ে কোনো খবর নেই। পুরো বিষয়টি একটি ‘ম্যানুফ্যাকচার্ড’ বা সাজানো ঘটনা বলে দাবি করেন তিনি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে প্রশাসন বা সংগঠনের কাছে অভিযোগ জানান, তবে অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধরনের সংস্কৃতি তাঁরা কোনোভাবেই সমর্থন করেন না বলে সাফ জানিয়েছেন রাজ্য সভাপতি।

কী বলছে সংগঠনের সম্পাদক?

NMO-এর সম্পাদক ডা. অর্ণব পালও একই সুরে সমস্ত অভিযোগ খণ্ডন করেছেন। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেনামে ছড়ানো ওই পোস্টের পর তারা প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে দেখেছেন যে, সাংগঠনিকভাবে এর সঙ্গে সংগঠনের বিন্দুমাত্র কোনো যোগ নেই। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা কখনোই কোনো কলেজের অফিশিয়াল প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠান দখল করে তাতে জোরজুলুম করি না। আমাদের সংগঠনের আদর্শ এই ধরনের বলপূর্বক অর্থ সংগ্রহে বিশ্বাসী নয়।”

তদন্তের নামে বা ফেস্টের চাঁদার নামে প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের হেনস্থা ও তোলাবাজির এই অভিযোগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে নতুন করে রাজনৈতিক ও ছাত্র রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *