“সুদীপদার বাড়ি গিয়ে ৪টে নাড়ুর ২টো খেলাম!” লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় বড়সড় রাজনৈতিক ধামাকা, তোপ কুণালের!

লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আচমকা উপস্থিতি ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়। নিছকই পুজোর নিমন্ত্রণ নাকি আসন্ন পুরভোটের আগে কোনো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে—তা নিয়ে জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। এই সাক্ষাতের মধ্যেই তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের ‘চন্দন কাঠের মালা’ পরানোর বিতর্কিত মন্তব্যে আগুনে ঘি পড়েছে।

“সৌজন্য সাক্ষাৎ, রাজনীতি খুঁজবেন না”— শুভেন্দু: সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং প্রবীণ নেতার আন্তরিক আমন্ত্রণে সাড়া দিতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। এর সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

সৌজন্যের স্মৃতিচারণ করে শুভেন্দু বলেন:

“আগে প্রত্যেকবার ডাকতেন, কিন্তু কোনোবার আসা হয়ে ওঠেনি। তিনি রাজ্যের একজন অত্যন্ত প্রবীণ নেতা এবং আমার বাবার সমসাময়িক। এক মাস আগে আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে ডেকেছিলেন, তাই এসেছি। এটা সম্পূর্ণ সৌজন্য বিনিময়।”

পুজোর জন্য মিষ্টি নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে সুদীপবাবুর বাড়ির আতিথেয়তার প্রসঙ্গের টানে তিনি আরও যোগ করেন, “বৌদি (নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়) নারকেলের নাড়ু খাইয়েছেন। চারটে নাড়ু দিয়েছিলেন, তার মধ্যে দুটো খেয়েছি।”

পুরভোটের মুখে নতুন সমীকরণ ও এনসিপিআই যোগ: সামনেই কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভার নির্বাচন। তার ঠিক আগেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চড়ছে পারদ। সম্প্রতি দলবদল করে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া সুদীপবাবুর দাবি, আসন্ন পুরভোটে তাঁদের দল বিজেপিকে পূর্ণ সমর্থন জানাবে এবং সেই সমর্থন নিয়ে তিনি একশো শতাংশ নিশ্চিত। এই পটভূমিতে তাঁর বাড়িতে শুভেন্দুর আতিথেয়তা গ্রহণ রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

“চন্দন কাঠের মালা পরাব”— কুণাল ঘোষের তীব্র তোপ: লক্ষ্মীপুজোর এই হাইভোল্টেজ সাক্ষাৎকার নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা কুণাল ঘোষ। কারও সরাসরি নাম না করে কুণাল কটাক্ষের সুরে বলেন, “সময় এলে আমি চন্দন কাঠের মালা পরিয়ে দেব, মুখে কালি মাখাব না!”

উল্লেখ্য, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে বিজেপি তথা এনডিএ (NDA) শিবিরের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কুণাল ঘোষ আগেও একাধিকবার সোচ্চার হয়েছিলেন। এবার লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় এই মোলাকাতকে কেন্দ্র করে তাঁর এমন মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *