ধনতেরাস ও দীপাবলির আগে সোনার দামে বড় চমক! জেনেনিন আজই সোনা কেনা কি বুদ্ধিমানের কাজ?

উৎসবের মরশুম শুরু হতেই গয়নার বাজারে কেনাকাটার ধুম লেগেছে। ধনতেরাস, দীপাবলি থেকে শুরু করে সামনেই বিয়ের মরশুম—সব মিলিয়ে দেশজুড়ে সোনা ও গয়নার চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঠিক এই সময়েই প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.৪৩ লক্ষ টাকার আশপাশে থাকায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এখনই কি সোনা কিনে ফেলা উচিত, নাকি দাম আরও কমার জন্য অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দামের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে অপরিশোধিত তেলের ওঠানামা এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত।
আন্তর্জাতিক বাজারে নজর: কী বাড়াতে বা কমাতে পারে দাম?
বিশ্ববাজারে সোনার দামের উপর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত এবং তেলের দাম সরাসরি প্রভাব ফেলে:
-
মার্কিন ডলার ও বন্ডের প্রভাব: যদি মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় মার্কিন কেন্দ্র ব্যাংক সুদের হার কমানোর পথ থেকে সরে আসে, তবে বন্ডের সুদ এবং ডলার শক্তিশালী হবে। যেহেতু সোনা থেকে সরাসরি কোনো সুদ পাওয়া যায় না, তাই এই পরিস্থিতিতে সোনার দামের উপর চাপ তৈরি হতে পারে।
-
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কেনাকাটা: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি ভরসা কিন্তু দামকে কিছুটা হলেও শক্তিশালী সমর্থন দিচ্ছে।
MCX-এ আজকের সোনার দর
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা MCX-এ সোনার দাম ১,৪২,৬৭৪ টাকার কাছাকাছি লেনদেন হতে দেখা গেছে, যা আগের থেকে সামান্য (প্রায় ০.৪৬ শতাংশ) বৃদ্ধি পেয়েছে।
Enrich Money-র সিইও পনমুদি আর-এর মতে, বিগত সপ্তাহের দরপতনের পর MCX-এ সোনার দাম একটি নির্দিষ্ট সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স স্তরের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে বাজারে এখনও অনিশ্চয়তা থাকায় দাম ঠিক কোন দিকে স্থায়ী হবে, তা বলা এখনই সম্ভব নয়।
Motilal Oswal Financial Services Ltd.-এর কমোডিটি বিশ্লেষক মানব মোদী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বর্তমানে প্রতি আউন্স ৪,০০০ ডলারের স্তরের কাছাকাছি রয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ট্রেজারি বন্ডের সুদের ওঠানামা সোনাকে একটি ব্যালেন্সড জায়গায় ধরে রেখেছে।
অপরিশোধিত তেল ও সোনার সম্পর্কের সমীকরণ
অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে অর্থনীতিতে মূল্যবৃদ্ধি বাড়ে। এতে সুদের হার দীর্ঘ মেয়াদে উঁচুতে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা সোনার জন্য নেতিবাচক। আবার তেল সস্তা হলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমে, যা পরোক্ষভাবে সোনার বাজারকে চাঙা করে।
এছাড়া ভারতীয় ক্রেতাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক দরই নয়, বরঞ্চ ডলারের বিপরীতে টাকার দাম, আমদানি শুল্ক এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদাও বড় ভূমিকা পালন করে।
দীপাবলি ও বিয়ের কেনাকাটা: এখনই কি সোনা কিনবেন?
যদি উৎসব বা বিয়ের জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সোনা কেনার পরিকল্পনা থাকে, তবে দাম একদম সর্বনিম্নে নামার জন্য অপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
-
ধাপে ধাপে কেনাকাটার কৌশল: বাজারের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, একবারে সব বাজেট খরচ না করে ধাপে ধাপে (SIP স্টাইলে) সোনা কেনা যেতে পারে। এতে দামের ওঠানামার ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো যায়।
-
দোকানের হিসাব ও MCX দর: মনে রাখা দরকার, MCX-এর রেট আর আপনার কাছের সোনার দোকানের চূড়ান্ত বিল এক নয়। দোকানে গয়নার মজুরি (making charges), প্রযোজ্য কর (GST) এবং সোনার বিশুদ্ধতা অনুযায়ী চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হয়।
দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ
আপনি যদি বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কিনতে চান, তবে এক দিনের দামের ওঠানামা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। সোনা দীর্ঘমেয়াদে আপনার বিনিয়োগের পোর্টফোলিওকে সুরক্ষিত রাখে।
গয়না কেনার ক্ষেত্রে মজুরির খরচ থাকে, যা বিক্রির সময় ফেরত পাওয়া যায় না। তাই বিনিয়োগের কথা ভাবলে গোল্ড ETF বা অন্যান্য ডিজিটাল সোনাভিত্তিক নিয়ন্ত্রিত মাধ্যম বেছে নেওয়া বেশি লাভজনক হতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার আর্থিক লক্ষ্য ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বিচার করে এগো দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।